সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৫টি চিনিকলের জমির পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার একর। এর মধ্যে বন্ধ রয়েছে ছয়টি চিনিকল। চিনিকলগুলো বন্ধের পেছনে ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহল। এ কারণগুলোর সমাধান হলে চিনিকলগুলো পুনরায় জেগে উঠতে পারে। এখন প্রয়োজন বড় ধরনের অর্থের বিনিয়োগ। এ ছাড়া দরকার আধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই ব্যবসায়িক পরিকল্পনা। গত ছয় বছরে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিল, পাবনা সুগার মিল, পঞ্চগড় সুগার মিল, সেতাবগঞ্জ সুগার মিল, রংপুর সুগার মিল ও কুষ্টিয়া সুগার মিলে চিনি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তখন থেকে চিনিকলগুলো পরিত্যক্ত। পরিত্যক্ত ছয় চিনিকল পাহারা দিতে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চিনিকলগুলোর মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট অথবা চুরি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যেঠস নেবে এমন কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি।
জানা গেছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় চিনি বিক্রির আয় কম হওয়ায় মিলগুলোতে আখ মাড়াই চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মিল চালু রাখতে পর্যাপ্ত আখ উৎপাদন না হওয়ায় মিলগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পায় না। কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে আখের পরিবর্তে বেশি লাভজনক ফসল আবাদ করায় মিল এলাকায় চাহিদার তুলনায় আখ কম হচ্ছে। এ ছাড়া অধিকাংশ চিনিকলের যন্ত্রপাতি অনেক পুরোনো। ফলে উৎপাদন ক্ষমতা কম এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি হচ্ছিল। আরেকটি কারণ হলো বেসরকারি খাতের পরিশোধিত চিনির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পিছিয়ে পড়েছিল।
উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যেও মধ্যে বিস্তর ফারাকও আরেকটি কারণ। এ ছাড়া দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, সময়মতো সংস্কার না হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকায় এক সময় চিনিকলগুলো বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। বন্ধ ছয় চিনিকল টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিগত সরকারের কাছে বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বন্ধ চিনিকল চালুর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।