Image description

বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করলেও ব্যাংকিং খাতের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে তেমন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব থাকলেও পেমেন্ট ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্ভরতার ধরন আলাদা। দক্ষ জনবল, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং ব্যাংকের আস্থা অর্জন এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কে বিঘ্নের ঘটনা বিকল্প প্রযুক্তির নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এনেছে।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড, এটিএম ও আন্তঃব্যাংক লেনদেন বাড়ছে। এসব সেবা চালু রাখতে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার, পেমেন্ট সুইচ, সার্ভার ও নিরাপত্তা প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন। সব প্রযুক্তি একই ধরনের কাজ করে না। তাই কোনো একটি সফটওয়্যারে দেশীয় সক্ষমতা থাকলে যে পুরো প্রযুক্তি ব্যবস্থায় সক্ষমতা আছে, সেটা বলা যাবে না।

গত ৪ অক্টোবর বিদেশি সফটওয়্যারে পরিচালিত কিউ-ক্যাশের সিস্টেম স্থানান্তর ও হালনাগাদের পর প্রায় ৩৭টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম এবং জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) সঙ্গে যুক্ত কিছু সেবা ব্যাহত হয়। ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক নেটওয়ার্কটির পরিচালনাকারী আইটি কনসালট্যান্টসের ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে তলব করে। পরদিন রাতে সেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে প্রযুক্তির উৎস ও বিঘ্নের কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে বিরোধ রয়েছে।

দেশীয় সফটওয়্যার আছে, তবুও কেন বিদেশ নির্ভরতা?

বাংলাদেশে ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। লিডস করপোরেশনের ‘ব্যাংকআল্টিমাস’, মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সলিউশনসের ‘আবাবিল’ এবং ফ্লোরা লিমিটেডের ‘ফ্লোরা ব্যাংক অনলাইন’ দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের উদাহরণ।

 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ‘রিভিউ স্টাডি অন আইটি অপারেশনস অব ব্যাংকস ফর ২০২৪’ শীর্ষক গবেষণা বলছে, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ব্যবহারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশ ৪৫.১৬ শতাংশ। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশ ৪১.৯৪ শতাংশ। আর বিআইবিএম এর ২০১৯ সালের গবেষণায় বলা হয়, দেশের ৫০ শতাংশ ব্যাংক তাদের কোর ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে। আর ৩৫.১৮ শতাংশ ব্যাংক সম্পূর্ণ দেশি কোম্পানির তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

 

এই পরিসংখ্যানে দেশীয় কোম্পানির সক্ষমতার উঠে এলেও সব প্রযুক্তিতে একই চিত্র পাওয়া যায় না। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যাংকের হিসাব, আমানত ও ঋণ পরিচালনা করে। অন্যদিকে পেমেন্ট সুইচ কার্ড ও বিভিন্ন লেনদেন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। কার্ড ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্যও আলাদা প্রযুক্তি প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশ উল্লেখযোগ্য হলেও অন্য প্রযুক্তিতে বিদেশি পণ্য বা কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন থাকতে পারে।

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক খাতে প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে ব্রেনস্টেশন নামের একটি কোম্পানি। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) রাইসুল কবীর চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি নেই। তারা চাইলেই বিশ্ব মানের সার্ভিস দিতে পারে। তবে দেশীয় কোম্পানি হওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো আস্থা আনতে পারছে না। এটা উচ্চ সিকিউরিটির বিষয় হওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রবেশ করতে পারছে না।”

অধিকাংশ ব্যাংক যেসব বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে

ব্যাংক খাতে সফটওয়্যার ব্যবহারে দুইটি দিক আছে। প্রথমত, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার, দ্বিতীয়ত, পেমেন্ট সংক্রান্ত সফটওয়্যার। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যাংকের আমানত, ঋণ, হিসাব ও দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা করে। অন্যদিকে পেমেন্ট সুইচ কার্ড, এটিএম ও বিভিন্ন লেনদেন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। কোনো ব্যাংক দেশীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও কার্ড বা পেমেন্ট সেবায় বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে পারে।

 

বিআইবিএমের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংক বিদেশি কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার হিসেবে টেমেনোস টি২৪, ওরাকল ফ্লেক্সকিউব, ফিনাকল ও মাইসিস ইকুয়েশন ব্যবহার করে। যেমন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ওরাকলের ফ্লেক্সকিউব কোর ব্যাংকিং সমাধান ব্যবহার করে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এনআরবি ব্যাংক ওরাকল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস সফটওয়্যারের ফ্লেক্সকিউব ইউবিএস ১৪.৮ সংস্করণের জন্য চুক্তি করে। এক্সিম ব্যাংক সুইজারল্যান্ডের তৈরি টেমেনোসের টি২৪ সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

 

ব্র্যাক ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ ভারতের ইনফোসিসের ফিনাকল কোর ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। সোনালী ব্যাংক ব্যবহার করে ইন্টেলেক্ট কোর ব্যাংকিং সলিউশন যা ভারতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলেক্ট ডিজাইন অ্যারেনার তৈরি। এছাড়া এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও হাবীব ব্যাংক যুক্তরাজ্যের তৈরি মাইসিস ইকুয়েশন কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এর বাইরেও অনেক ব্যাংক এসব বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে। আর এসব সফটওয়্যার শুধু যে বাংলাদেশে ব্যবহার হয় বিষয়টা এমন না। এসব সফটওয়্যার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক খাতে ব্যবহার হয়। তাই এসব সফটওয়্যারের উপর বিশ্বজোড়া সুনাম ও আস্থা রয়েছে।

 

খরচ, ব্যাংকের আস্থা ও ভেন্ডর লক-ইন চ্যালেঞ্জ

বিআইবিএমের একই পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি বাজেটের ৪০.৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে হার্ডওয়্যারে। সফটওয়্যারে ব্যয় হয়েছে ২৯.৩ শতাংশ। তবে এ তথ্য দিয়ে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের ঘাটতি সরাসরি প্রমাণ করা যায় না।

ব্যাংকিং সফটওয়্যার তৈরির পরও নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট, ত্রুটি সংশোধন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে হয়। পেমেন্ট ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক সহায়তা ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাও জরুরি। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো একই পণ্য বহু গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। তাই তাদের আয়ও বেশি হয়। তখন তারা গবেষণা ও উন্নয়নে বেশি টাকা খরচও করতে পারে। কম গ্রাহক থাকা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পরিমাণ বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়।

 

অন্যদিকে, নতুন সফটওয়্যার নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বড় ঝুঁকি নিতে হয়। পুরনো তথ্য স্থানান্তর, লেনদেনের নির্ভুলতা যাচাই এবং অন্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ পরীক্ষা করতে হয়। কোনো ধাপে ত্রুটি হলে গ্রাহকসেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই ব্যাংকগুলো সাধারণত পরীক্ষিত প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য কারিগরি সহায়তাকে গুরুত্ব দেয়।

 

বিআইবিএমের পর্যালোচনায়, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর ব্যবহৃত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের ৬৭ শতাংশ নিজস্বভাবে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। তবে এ পরিসংখ্যান দিয়ে জটিল পেমেন্ট অবকাঠামোয় দেশীয় সক্ষমতার মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না।

 

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বড় ব্যাংকে সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ না পেলে বড় পরিসরে সক্ষমতা প্রমাণ করা কঠিন। আবার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকলে ব্যাংকগুলো নতুন প্রযুক্তি কিনতে আস্থা পায় না। এ বাধা কাটাতে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক ব্যবহার, স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে এসব সফটওয়্যার সম্প্রসারণের সুযোগ প্রয়োজন।

 

গুটি কয়েক কোম্পানির ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করলেও নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। কোনো ব্যাংকের সফটওয়্যার, ডেটাবেজ, কার্ড ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সিস্টেম একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে অন্য ব্যবস্থায় যাওয়া ব্যয়বহুল হয়। একে বলা হয় ‘ভেন্ডর লক-ইন’।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৩ সালের আইসিটি সিকিউরিটি গাইডলাইনে এসব প্রযুক্তি কোম্পানির সক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল এসব প্রযুক্তিসেবা বাইরে থেকে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনাও প্রয়োজন। তাই চুক্তিতে শুধু মূল্য ও রক্ষণাবেক্ষণের শর্ত নয়, তথ্য স্থানান্তরের অধিকার, কারিগরি নথি পাওয়ার সুযোগ এবং চুক্তি শেষ হওয়ার পর সহায়তার বিষয়ও স্পষ্ট থাকা দরকার।

 

রাইসুল কবীর বলেন, “অনেক ব্যাংক আগে থেকে বিদেশি কোম্পানির সার্ভিস ব্যবহার করে। এটাতে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যস্ত। সেই সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিতে তারা কিছুটা কম সার্ভিস পেলেও সেখান থেকে সরে আসতে ভয় করে। তারা মনে করে, নতুন কোনো কোম্পানির সেবা নেব, কেমন হবে, কোনো সমস্যা হলে তখন আমরা কী করব-এসব নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না। আর তারা যেহেতু ঝুঁকি নেয় না তাই দেশি কোম্পানিগুলো এসব খাতে প্রবেশ করতে পারছে না।”

 

কিউ-ক্যাশের ঘটনা: নিরাপত্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার গুরুত্ব

কিউ-ক্যাশের সেবা বিঘ্নে ৩৭টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও সংশ্লিষ্ট কিছু ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হলেও দেশের সব ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, এনপিএসবিতে সরাসরি যুক্ত অন্যান্য ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা এবং পেমেন্ট সেবাদাতাদের লেনদেন স্বাভাবিক ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেক ক্লিয়ারিং, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ব্যবস্থাও সচল ছিল।

 

এ ঘটনা আমাদের দেখিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে সমস্যা হলে একসঙ্গে বহু ব্যাংকের গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা রাখাও জরুরি। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ, তথ্যের ব্যাকআপ এবং দুর্যোগের পর সেবা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি থাকতে হবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি সিকিউরিটি গাইডলাইনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসেবার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি স্থানান্তরের আগে যথাযথ পরীক্ষা, ব্যাংকগুলোকে আগাম জানানো এবং সমস্যা হলে আগের ব্যবস্থায় ফেরার পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

কিউ-ক্যাশের ঘটনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিগত বিরোধ বা সফটওয়্যার লাইসেন্সের ভূমিকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে বিরোধ থাকায় এসব বিষয় নিশ্চিত করতে চুক্তিপত্র, লাইসেন্স এবং স্থানান্তর পরিকল্পনা যাচাই করা প্রয়োজন।

 

দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় সফটওয়্যার খাতকে এগিয়ে নিতে শুধু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিলেই হবে না। তাদের পণ্যকে নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি এবং স্বাধীন নিরাপত্তা নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

 

ব্যাংকগুলোও সফটওয়্যার বাছাইয়ের সময় শুধু প্রাথমিক দাম নয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি বদলের মোট ব্যয় বিবেচনা করতে পারে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দিলে তাদের পণ্যের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব প্রযুক্তির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা রাখতে হবে। দেশীয় সফটওয়্যার তৈরি করাই শেষ কথা নয়। সেটিকে নিরাপদভাবে পরিচালনা, বড় পরিসরে নির্ভরযোগ্য সেবা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প প্রযুক্তিতে যাওয়ার প্রস্তুতিও থাকতে হবে। ব্যাংকিং প্রযুক্তিতে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পথ তাই শুধু সফটওয়্যারের উৎস বদলানো নয়, বরং প্রযুক্তির দক্ষতা, নিরাপত্তা ও পরিচালন সক্ষমতা ধাপে ধাপে গড়ে তুলতে হবে।

তবে ধীরে ধীরে এই খাত এগোচ্ছে জানিয়ে রাইসুল কবীর বলেন, “একটা সময় দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার আরও কম হতো। এখন অনেক ব্যাংক দেশীয় প্রযু্ক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক।”