Image description

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে সুন্দরবনের পাশে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২৩ রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধের চিঠিতেও সাড়া মিলছে না। পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে রিসোর্টগুলোর বিজ্ঞাপন। সেখানে এখনও অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশের প্রলোভনসহ নানা আকর্ষণীয় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের দিয়ে চলছে তাদের পক্ষে প্রচারণা।

সুন্দরবন ও প্রকৃতিবান্ধব পর্যটক গবেষকরা বলছেন, স্থায়ীভাবে বন্ধ না করে নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এগুলো চালু করা যেতে পারে। তবে অবশ্যই সুন্দরবনের বাফারজোন থেকে কিছুটা সরিয়ে আনতে হবে। যত্রতত্র রিসোর্ট অনুমোদন না দিয়ে কোন এলাকায় পর্যটন ধারণ ক্ষমতা কত এবং সুন্দরবনের ওপর প্রভাব কেমন- বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে রিসোর্ট ব্যবসা চালু করা যেতে পারে। এ ছাড়া রিসোর্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ বছর ধরে সুন্দরবনের চারপাশে গড়ে উঠেছে ২৪টিরও বেশি রিসোর্ট।

সম্প্রতি ঘুরে দেখা গেছে, সুন্দরবনের ঠিক উল্টো পাশেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ব্যক্তিমালিকানা জমিতে রিসোর্টগুলো তৈরি হচ্ছে। কোনও নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা না থাকায় যে যেভাবে পারছে গাছ কেটে, জলাভূমি ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করছে। ‘ইকো’ বলা হলেও বেশির ভাগ স্থাপনার ভেতরে কংক্রিট, ওপরে বাঁশ-কাঠ ও গোলপাতা। চিলা, চাঁদপাই ও মুন্সীগঞ্জে কংক্রিটের স্থাপনা হচ্ছে বেশি। পর্যটকের আচরণে নীতিমালা না থাকায় রাতে সেখানে চলে গানের আসর ও বারবিকিউ পার্টি। বেড়াতে আসা পর্যটককে অবৈধভাবে বন ও বনের খালে ঘুরতে নিয়ে যান রিসোর্টের কর্মীরা।

দেখা গেছে, ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষিত সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল ঘিরে প্রায় ১০টি রিসোর্ট তৈরি হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় মিঠাপানির গাঙ্গেয় ডলফিন (শুশুক) এবং ইরাবতী ডলফিনের এই বিচরণস্থল দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রলার ও নৌযান পর্যটককে আনা নেওয়া করছে। ঢাংমারী খাল ও বনের ভেতরে ঘোরার সময়ও পর্যটককে হৈ-হুল্লোড় করতে দেখা যায়। প্রতিটি রিসোর্টে এসি ও জেনারেটর চলছে।

 

পর্যটকের ব্যবহৃত পানি ফেলা হচ্ছে বনের খালে। পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ করায় গত ৪ অক্টোবর বনের পাশে গড়ে ওঠা ২৩টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দেয় পরিবেশ অধিদফতর।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পরিবেশ অধিদফতরের চিঠির তোয়াক্কা না করে আগের মতোই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন রিসোর্ট মালিকরা। সামাজিক মাধ্যমে পর্যটক আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারের জন্য সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিনামূল্যে রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চাইছেন।

পরিবেশ অধিদফতর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহমেদ জানান, তাদের কয়েকবার সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী নিয়ম মেনে অবকাঠামো নির্মাণ করা অপরাধ নয়। কিন্তু তারা কোনও ধরনের নিয়ম কানুন মানে না এবং পরিবেশের ক্ষতি করে। আইন মেনে কয়েকবার সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে এরপর বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকৃতিবান্ধব পর্যটন গবেষক ড. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, ‘রিসোর্টগুলোর নেতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, ইতিবাচক দিকও কম নয়। বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান হচ্ছে, অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে গ্রামগুলোর অর্থনীতি দিন দিন বড় হচ্ছে। এ অবস্থায় পর্যটন ও সুন্দরবনকে সাংঘর্ষিক না ভেবে নীতিমালা ও নিয়ম মেনে রিসোর্ট চালানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই আগে বনের ওপর প্রভাব নিরূপণ করতে হবে। কোন স্থানে কতজন পর্যটক ভ্রমণ করলে চাপ পড়বে না, সেই ক্যারিং ক্যাপাসিটি নির্ধারণ করতে হবে।’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়েও বেশি স্পর্শকাতর ও জটিল বাস্তুসংস্থানের অধিকারী। বনঘেঁষে একের পর এক রিসোর্ট এবং পর্যটকের অতিরিক্ত আনাগোনা ও চিৎকার-চেঁচামেচিতে বনের বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রাণীরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য খালের মাধ্যমে বনের ভেতরে প্রবেশ করে পরিবেশের ক্ষতি করছে।’

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পর্যটক অনুমতি ছাড়াই বনে প্রবেশ করেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত শব্দ ও আলো এবং ফেলে যাওয়া বর্জ্যও বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। রিসোর্টগুলো সুন্দরবনের সীমানার বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে তৈরি। ফলে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। পরিবেশ অধিদফতরের উচিত এগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।’

পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনও রিসোর্ট পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, বন্ধের নির্দেশ পাওয়া রিসোর্টগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রয়েছে।

রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক ও জঙ্গলবাড়ি এবং অরণ্যবাড়ি রিসোর্টের মালিক জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, ‘এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের ভেতরে নয়। বনের বাইরে সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত। রিসোর্টে আসা পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন না। তারা স্থানীয় জনপদে অবস্থান করে মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং দূর থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন। স্থানীয় মানুষের বসতবাড়ি ও জনপদকে কেন্দ্র করেই তাদের উদ্যোগে এ ধরনের কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে।’

জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, ‘এই ভৌগোলিক ও কার্যগত পার্থক্য উপেক্ষা করে এসব উদ্যোগকে সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতা বিবর্জিত ও একপাক্ষিক। আমরা চাই, রিসোর্ট স্থাপন ও পরিচালনার নিয়ম, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হোক। আমরা আইন ও সরকারি নীতিমালা মেনে পরিচালিত হয়ে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং বিকল্প জীবিকার প্রসারে অবদান রাখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইআই রিপোর্টে গ্রিন জোনে রয়েছি। ইসিএ ভুক্ত এলাকায় গ্যাস কারখানাসহ অন্য শিল্প কলকারখানা পরিবেশ ছাড়পত্র পেলে রিসোর্টের পেতে সমস্যা কোথায়। দাকোপে ১৫টি রিসোর্টে ১১৯টি রুম রয়েছে। সেখানে ১৫৩ জন কাজ করছে। এর ১৩৫ জনই স্থানীয়। এ সব রিসোর্টে ৫০০ জনের ক্যাপাসিটি রয়েছে। কিন্তু রিসোর্টগুলোর ৪০-৫০টি রুম ফুলফিল হয়।’

তিনি বলেন, ‘রিসোর্ট মালিকদের এখন কেবল পরিবেশের ছাড়পত্র হলেই অনুমোদন পাওয়ার পথ ক্লিয়ার হয়। ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স কিছু রিসোর্ট পেয়েছে। বাকিগুলোও নিয়ম মেনে পেয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘রিসোর্টে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। ফলে এখান থেকে প্লাস্টিকের বর্জ্য বনে যাওয়ার অভিযোগ আমলযোগ্য নয়। আর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও আধুনিক। জোয়ারের পানির স্তর থেকেও অনেক উঁচুতে ট্যাঙ্কি নির্মাণ করা হয়। অন্য বর্জ্য রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। আর রিসোর্টের ফলে স্থানীয় সাড়ে ৭ হাজার পরিবারের জীবিকার পথ তৈরি হয়েছে। এবার এখনও আমরা কোনও নোটিশ পাইনি। নোটিশ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

জাকারিয়া শাওন বলেন, ‘খুলনায় সুন্দরবন ঘেঁষা ১৭ কিলোমিটার এলাকায় ১৮টি রিসোর্ট বলা হলেও আছে ১৫টি। লা সিলভা কটেজের অস্তিত্ব নেই। এটাই এখন অরণ্য ছায়া। গোলকানন এখন আর সক্রিয় নেই। কেওড়াবন এখনও চালু হয়নি।’

সুন্দরবন অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন ব্যবসার প্রসার প্রয়োজন। তবে তা বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সেন্টমার্টিনের মতো ভুল সুন্দরবনে করা উচিত হবে না।’

পরিবেশ অধিদফতর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন ও সংলগ্ন নাজুক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ইসিএভুক্ত এলাকায় পরিচালিত অবৈধ রিসোর্টগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় ও খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে আগেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২০ নভেম্বর কোনও ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং অননুমোদিত বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের দায়ে কারণ দর্শানো ও সতর্কীকরণ নোটিশ জারি করে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর।

সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে নোটিশপ্রাপ্ত রিসোর্টগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ও গৃহীত পদক্ষেপের হালনাগাদ প্রতিবেদন তলব করা হয়েছে। বিভাগীয় নির্দেশের পরপরই সাতক্ষীরা অংশে অবৈধ পর্যটন ব্যবসা উচ্ছেদে চূড়ান্ত অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা কার্যালয়।


আইনি প্রক্রিয়ার মুখে থাকা ও বন্ধের নির্দেশ পাওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকার বিতর্কিত ৪টি রিসোর্ট হলো— বর্ষা, ওসান প্যারাডাইজ, সুশীলন ও প্রসাদ প্যারাডাইজ।

পরিবেশ অধিদফতর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমেন মৈত্র বলেন, ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার (ইসিএ) সংবেদনশীলতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। অথচ উক্ত ৪টি রিসোর্ট দীর্ঘদিন ধরে কোনও প্রকার বৈধ অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আমরা পূর্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। পরিবেশ আইন অমান্য করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় এবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জে ডি এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন বিভাগের আওতাধীন সীমানার ঠিক বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে নির্মিত হওয়ায় বন বিভাগের পক্ষে সরাসরি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার আইনি সুযোগ সীমিত। তবে এসব অবৈধ রিসোর্ট থেকে বনের সংরক্ষিত গভীরে পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, বিকট শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে শব্দদূষণ, রাতভর তীব্র আলোর ব্যবহার (লাইটিং) এবং প্লাস্টিক ও ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলার কারণে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র চরম হুমকির মুখে পড়েছে।’

কোস্টাল ভয়েস ফর অ্যাগ্রো-ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিভিএই) প্রধান নির্বাহী ও পরিবেশকর্মী আশেক-ই-ইলাহী বলেন, ‘সুন্দরবন কেবল আমাদের জাতীয় সম্পদ নয়, এটি উপকূলীয় জীবন ও প্রকৃতির রক্ষাকবচ। পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো সুন্দরবনের নাজুক বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। শব্দদূষণ, বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অপূরণীয়। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেবল সতর্কীকরণ নোটিশ যথেষ্ট নয়; এসব অননুমোদিত রিসোর্ট অবিলম্বে উচ্ছেদ করে ইসিএ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও টেকসই পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি নিশ্চিত করতে হবে।’