Image description

জুলকারনাইন সায়ের 

গতকাল (১৩ অক্টোবর) দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি ক্যাম্পাসের ভেতরে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার শায়ন।

একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শায়ন একটি স্কুলবাসের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। বাসটি হঠাৎ রিভার্স করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

 

কিছুক্ষণ আগে শায়নের বাবাকে ফোন করলে তিনি জানান, সন্তানের লাশ দাফনের জন্য পাবনা নিয়ে যাচ্ছেন। শোক সামলে তিনি বলেন, বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে স্কুল থেকে ফোন করে তাঁকে যেতে বলা হয়। প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে পৌঁছালে তাঁকে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় তাঁর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তখনও পর্যন্ত শিশুটির লাশ ওই বাসের নিচেই পড়ে ছিল।

 

হাতে আসা বিভিন্ন ছবি যাচাই করে দেখা গেছে, কাগজের কার্টন জাতীয় কিছু দিয়ে লাশ ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো—স্কুলের ভেতর একটা শিশু দূর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কেন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়নি? কেন তাঁর লাশ বাসের নিচে পড়ে থাকলো?

শায়নের বাবা আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছেলের লাশ তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের প্রসঙ্গ তুললে তিনি রাজি হননি। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক এই পিতা কোনো মামলাও করেননি; ময়নাতদন্ত করবেন না—এই মুচলেকা দিয়ে সন্তানের লাশ নিয়ে যান।

যে অভিভাবক সকালে জলজ্যান্ত সন্তানকে স্কুলে পাঠালেন, সেই স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরেই বাসের চাকায় তার মৃত্যু—তারপর হাসপাতালের বদলে মৃতদেহ পড়ে থাকল বাসের নিচে, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে সেই লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হলো। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের নয়।

কয়েকটি দৈনিকের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: “স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠার সময় পা পিছলে নিচে পড়ে যায় শায়ন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”

এটা কি খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা? ঘটনাস্থল স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে, যেখানে চলন্ত বাসে কোনো শিশুর ওঠার সুযোগই নেই। আর যদি পড়েও যায়, তাহলে বাসের গতি কত ছিল?

এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বলে তদন্ত ও মামলা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি পরামর্শ—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুন। বাসচালক কিংবা অন্য কারও অবহেলা থাকলে তাদের শনাক্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।

 

লেখক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক