মায়ের কারাবাসে কারাগারের পরিবেশে শৈশব কাটছে ৩০৩ শিশুর। এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক যত্ন অথবা সরকারি শিশু পরিবারে পুনর্বাসনের সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। কোনো শিশুর নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে তাকে নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রেখে লালনপালন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে এমন একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর হাতেও এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শিশুরা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে, সেটাই প্রত্যাশা। তবে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাদের বড় করা কতটা সমীচীন, সেটিও বিবেচনার বিষয়। একই সঙ্গে কারাগারে তাদের মানসিক বিকাশ কতটা হচ্ছে, তা দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মা ও শিশুর স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ প্রতিবেদনের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা) সাংবাদিকদের বলেন, মায়েদের সঙ্গে কারাগারে থাকলেও এসব শিশুর দেখভাল করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখা। এ দুটি শাখা সমন্বিতভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি রিট আবেদনকারী হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অবকাশ ছুটির পর নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হলে কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি এখতিয়ারসম্পন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হতে পারে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে মাঠপর্যায়ের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। এসব শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষায় প্রবেশন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুদান এবং সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে শিশু সুরক্ষা ইউনিটের আওতায় কারাগারে শিশুদের জন্য পৃথক কোনো কার্যক্রম নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবেশন শাখার মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারের পরিবেশ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অনুকূল নয়। তাই কারাগারে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশুদের সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে পরদিন হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা)। গত ১৫ জুন রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বা দণ্ডিত মায়েদের সঙ্গে কারা হেফাজতে কত শিশু রয়েছে, কোন কারাগারে কত শিশু, তাদের বয়স কত, কী পরিবেশে তাদের রাখা হচ্ছে এবং শিশু পরিচর্যায় কোন কারাগারে কী ব্যবস্থা রয়েছে, এসব তথ্য উল্লেখ করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়।