শেরপুরে বাসা থেকে নিখোঁজের একদিন পর মহিবুল ইসলাম (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবম শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ফল খারাপ হওয়ার ভয়ে সে নিজেই আত্মগোপনে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে তাকে অপহরণের কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র।
আজ রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শেরপুর কৃষি ইনস্টিটিউটের একটি ছাত্র মেস থেকে মহিবুলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ দিন বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার।
মহিবুল শেরপুর জেলা শহরের মাধবপুর মহল্লার কলেজশিক্ষক শাহীনুর ইসলামের ছেলে। সে শহরের নবারুণ পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার স্কুলে না গিয়ে বাসায় ছিল মহিবুল। বিকাল ৪টার দিকে তাকে বাসায় রেখে বাইরে যান তার মা ইফফাত আরা মুন। পরে ফিরে এসে ছেলেকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত গভীর হলেও তার সন্ধান না পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায় পরিবার।
এর মধ্যে একটি চক্র পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মহিবুলকে অপহরণের দাবি করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে টাকা চায়। ছেলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মহিবুলের বাবা শাহীনুর ইসলাম ওই চক্রের দেওয়া নম্বরে প্রাথমিকভাবে ২৪ হাজার টাকা পাঠান।
এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ। পরে রবিবার দুপুরে শেরপুর কৃষি ইনস্টিটিউটের একটি ছাত্র মেস থেকে মহিবুলকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মহিবুল জানিয়েছে, নবম শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ভয়ে সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। ফল প্রকাশের আগেই সে আত্মগোপন করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার জানান, মহিবুলের পরিবার প্রতারণা করে টাকা নেওয়া চক্রটির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।