Image description

বালুর রাজ্য সিলেটের সারি নদী। এ নদীর বালু শুধু সিলেট অঞ্চলই নয়, গোটা দেশের বালুর অধিকাংশ চাহিদা মেটায়। কয়েক হাজার শ্রমিক ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু তুলে তারা বিক্রি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বালুর রাজ্য থেকে পাথর লুটে বোমা মেশিন ব্যবহার করছিলো একটি সিন্ডিকেট। রাত নামলেই শুরু হয় ওই সিন্ডিকেটের তাণ্ডব। প্রতিদিনই তারা ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পাথর লুট করে। অথচ বালুমহাল থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে খনিজ সম্পদ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নজর এড়ায়নি জৈন্তাপুরের প্রশাসনেরও। বোমার তাণ্ডবে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা জাগে। ঘরবাড়ি, বসতি ভাঙার উপক্রম নয়। এ কারণে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি জানার পর শনিবার রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান শুরু করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- রাতে অভিযান কালে তারাও যন্ত্রদানব বোমা মেশিনের উপস্থিতি খুঁজে পান।

বেশ কয়েকটি বোমা মেশিন তখনো নদীর তলদেশ বালুর এলাকা থেকে পাথর তুলছিলো। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সিন্ডিকেটের নিয়োজিত পাথর শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই এলাকায় উত্তোলিত পাথর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বালু শ্রমিকদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আসেন। অভিযানের সময় বোমা মেশিন ধ্বংস বা জব্দ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। সারি নদীর বালুময় এলাকাকে সারি-১ ও সারি-২ নামে বিভক্ত করে প্রতি বছরই লিজ দেয় প্রশাসন। এবারো দু’টি কোয়ারি লিজ হয়েছে। সারি-২ এর লিজ গ্রহীতার বাড়ি গোয়াইনঘাটের নাসির নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তিনি ওই বালুমহাল পরিচালনা করেন। সম্প্রতি জৈন্তাপুরের বাসিন্দা নাসির, নাজিম, রহিম ও কুটি সহ কয়েকজন লোক ওই এলাকায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করে। রাতে চালায় তারা বোমা মেশিন। আর দিনে বন্ধ রাখে। বিষয়টি জানার পর জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিজ গ্রহীতাকে বোমা মেশিন বন্ধের নোটিশ দেয়া হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানার পাশাপাশি বালুবাহী ট্রাক যাতায়াতের সড়কটি বন্ধ করে দেন। নদী থেকে উপরে ওঠার সড়কটি বন্ধ করে দেয়ার কারণে গতকাল সকালে কোয়ারি এলাকায় পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা জানিয়েছেন- সারি নদীর পানি এখন নদীর তলদেশে। কয়েকশ’ ফুট নিচ থেকে হাত দিয়ে বালু তুলে মাথায় নিয়ে আসা সম্ভব হয় না।

এ কারণে ট্রাক বা ট্রাক্টরের জন্য অস্থায়ী সড়ক করা হয়। সে সড়কটিও বালুর তৈরি। এই সড়ক উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বন্ধ করে দেয়ার কারণে দু’টি বালু কোয়ারি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সকাল ৯টার দিকে কয়েকশ’ বালু শ্রমিক সিলেট-তামাবিল সড়কের সারিঘাট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়- বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান। সে অবস্থানও তাদের। তারা প্রশ্ন তুলে বলেন- জৈন্তাপুরের প্রশাসন বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও হাতেনাতে বোমা মেশিন পেয়ে জব্দ করেনি। উল্টো তারা বালু যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে ব্যারিকেডের খবর পেয়ে জৈন্তাপুরের জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

প্রায় চার ঘণ্টা পর শ্রমিকরা ব্যারিকেড তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বাহার মানবজমিনকে জানিয়েছেন- এলাকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। প্রশাসন যা চায়, শ্রমিকরাও তাই চায়। বোমা মেশিনের বিরুদ্ধে সবার অভিযোগ। যারা বোমা মেশিন চালায় তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে গিয়ে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে বলে জানান- তিনি। জৈন্তাপুর উপজেলার ওসি মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন- বালুশ্রমিকদের জন্য ফের অস্থায়ী সড়কটি চালু করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা চাই না শ্রমিকদের ক্ষতি হোক। তবে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড নদীতে চলতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।