Image description

স্বামীর কাছ থেকে দূরে থেকে দুই ছোট মেয়েকে সামলানোর জন্য সহায়তা চেয়েছিলেন ৩৭ বছর বয়সী দিব্যা চৌধুরী। যে আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি জেলার হিসেবে কাজ করতেন, সেখান থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ঘর ও অফিসের বাড়তি কাজ সামলাতে না পেরে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের মহিলা সংশোধনাগারে থাকা দুই নারী বন্দির সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

১২ জুলাই দিব্যা দুই বন্দিকে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই দুজন হলেন যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করা কিরণ ওরফে সেঠা এবং বিচারাধীন বন্দি সানা। ঘটনাটি এখন দিব্যাকে সেই কারাগারেই বন্দি করেছে, যেখানে বন্দিদের হেফাজত ও নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিলো তার। পুলিশের অভিযোগ, কারাগারের কর্মীদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের পদের অপব্যবহার করে গৃহস্থালির কাজের জন্য তিনি দুই নারীকে বাইরে নিয়ে যান।

 

রাজস্থান প্রিজন রুলস ২০২২ অনুযায়ী, বন্দিদের হেফাজত, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব জেলারের (কারাপাল)। নিরাপত্তায় ঘাটতি বা অন্যান্য অনিয়ম হলে তা সুপারিনটেনডেন্টকে জানানোর দায়িত্বও তার।

 

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বন্ধু ও সহকর্মী কনস্টেবল সোনিয়া চৌধুরীসহ দিব্যা দুই বন্দিকে নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ফটকে বাগ্বিতণ্ডা হয়। কর্মকর্তারা জানান, মহিলা কারাগারের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত অন্য কর্মীদের আপত্তি সত্ত্বেও দিব্যা ও সোনিয়া তাদের ভয় দেখান।

দিব্যা রাজস্থানের ভিলওয়ারার বাসিন্দা। তিনি আজমিরে ভাড়া বাসায় থাকতেন, আর কোটায় কর্মরত ছিলেন তার স্বামী, তিনিও জেলার। আজমিরের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) শিবম জোশী বলেন, তার মেয়েরা খুবই ছোট। তিনি চেয়েছিলেন, ওরা (বন্দিরা) তার মেয়েদের দেখাশোনা করুক এবং বাসাও পরিষ্কার করুক।

 

দিব্যা বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশ জানায়, দুই বন্দি মাত্র এক-দুই ঘণ্টা বাইরে ছিলেন, এরপরই ভেতরে ফিরে আসেন। ডিএসপি বলেন, তার কাজ ছিল অবৈধ ও বেআইনি। আদালতের সুরক্ষায় বন্দিরা কারাগারে থাকেন। তাই মামলা করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

 

অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে দিব্যার দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রহরী মহিপাল মঙ্গলোডার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫ আগস্ট আজমিরের সিভিল লাইনস থানায় মামলা হয়। তবে গ্রেফতার এড়াতে এফআইআর হওয়ার পর পালিয়ে থাকেন দিব্যা।

সিভিল লাইনসের থানাপ্রধান শম্ভু সিংয়ের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিমাংশু জাঙ্গিড ও ডিএসপি শিবম জোশীর নির্দেশনায় একটি বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়। দলে নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাইবার সেলের কর্মকর্তারাও ছিলেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ দল সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও ঘটনাস্থলের নথি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং সাইবার সেলের সহায়তায় তাকে খুঁজতে শুরু করে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) আজমির পুলিশের একটি বিশেষ দল কোটা জেলার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

আজমিরের সিভিল লাইনস থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মইনুদ্দিন বলেন, তিনি স্বামীর ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। তার স্বামী কোটায় কারারক্ষী। আগে দুই মেয়েই আজমিরে তার সঙ্গে ছিলো। আমরা মোবাইল নম্বর দিয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করেছি। আমরা যখন কোটার অ্যাপার্টমেন্টে যাই, তখন তার স্বামী নিজের গ্রামে ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে দিব্যা দাবি করেছেন, বাসা পরিষ্কারে সহায়তার জন্য কাউকে চেয়েছিলেন এবং অধস্তন সোনিয়াকে ওপেন জেল থেকে নারীদের আনতে বলেছিলেন, কারণ তারা বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু অধস্তন এই দুই নারীকে নিয়ে আসেন। অবশ্যই এখন তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করবেন।

অস্বাভাবিক এই মামলার পরিণতিও অস্বাভাবিক। ডিএসপি শিবম জোশীর ভাষ্য, তাকে এখন সেই কারাগারেই রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি কাজ করতেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস