Image description

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরের মোহনগঞ্জে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক স্থানীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা ছাত্রদল। অভিযুক্ত মো. মফিজুল হক উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন।

 

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজীবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব নাজমুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

নোটিশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মফিজুল হককে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সামনে জবাব পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদকে প্রধান করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটিকেও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা ছাত্রদল।

 

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটাং পাড়া গ্রামের মো. ওমর আলীর গোয়ালঘরে চুরি করার উদ্দেশ্যে ঢুকে পড়েন মফিজুলসহ সংঘবদ্ধ একটি দল। বিষয়টি টের পেয়ে ওমর আলী বাইরে বেরিয়ে মফিজুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় তার হাতের আঙুল মুচড়ে দিয়ে পালিয়ে যান মফিজুল।

 

পরদিন সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় বাজারে বৃদ্ধ ওমর আলীকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ এবং কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে মফিজুলের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন (৩৮) বাদী হয়ে মফিজুলসহ চারজনকে আসামি করে ঢুষমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মফিজুল চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই সে গভীর রাতে আমাদের গোয়ালঘরে চুরি করতে ঢুকেছিল। বাধা দেওয়ায় আমার বাবাকে নির্যাতন করে পালিয়ে যায় এবং পরে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। এখন আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

 

তবে চুরির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মফিজুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ঢুষমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।