চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষার অজুহাত তুলে অননুমোদিত ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, স্কেচ করা এবং এসব তথ্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যমসহ যেকোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশকে ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। অনুমতি ছাড়া এসব কার্যক্রম চালানো হলে প্রযোজ্য আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আইএসপিএস অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
মালামাল চুরি, জালিয়াতি ও কন্টেইনার গায়েবসহ বিভিন্ন ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দর যখন সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তখন গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই সময় দুদক বন্দর চেয়ারম্যানের স্ত্রী আইরিন জামান এবং দুই ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার ও সারান ইয়াসারের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপিও চেয়েছিল। পরে ওই অনুসন্ধানের অগ্রগতি নিয়ে আর কিছু জানা যায়নি।
অনুমতি ছাড়া ছবি-ভিডিওতে নিষেধাজ্ঞা
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
এ ছাড়া অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন, ১৯২৩-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ বা প্রচার সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার অননুমোদিত ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন কিংবা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে KPI, সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন কোনো কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘কঠোর ব্যবস্থা’র হুঁশিয়ারি
বন্দর ব্যবহারকারীদের এসব নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।