‘ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল-এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বুধবার সকালে নগরের ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ চ্যালেঞ্জ দেন।
মেয়র বলেন, তাকে এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানকে হেয় করতে একটি সংঘবদ্ধ পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। বগাকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে তার অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিও ওই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন বগা আওয়ামী লীগের আমলে ৭০ থেকে ৮০টি মামলার আসামি। সে একজন জুলাইযোদ্ধাও।’ খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘এই আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের সময় বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন। যে আওয়ামী লীগের সময়ে ওসি হিসেবে এনজয় করেছে, সে কীভাবে এখন বিএনপির আমলে ওসি হয়?’
মেয়রের অভিযোগ, আবদুর রহিম খুলশী থানার ওসি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ওই এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তার ভাইয়েরা যখন অভিযোগ দিতে এসেছে, আমি বলতে চাই, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে এসেছিল।’
সম্প্রতি নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে হৃদয় নামের এক কিশোর হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে সেখানে হৃদয় নামে একজন কিশোর খুন হয়েছে। খুনে অভিযুক্ত কামরুল। তাকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলতে বাধ্য করেছে।’
মেয়রের দাবি, খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের আমলে ওসির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ওই এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের ‘নিশ্চিহ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন’। তিনি বলেন, ‘খুরশেদ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী আছে, সেও বলেছে ওয়াকিল এখানে জড়িত নন। এমনকি বাদীও বলেছে, ওয়াকিল জড়িত নন। এভাবে মেরে ওয়াকিলের নাম বলতে বাধ্য করছে ওসি।’
তবে মেয়রের এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি আবদুর রহিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘সিসিটিভি আছে, ফুটেজ দেখাক’
সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে বগার উপস্থিতির অভিযোগের বিষয়ে মেয়র তাঁর কার্যালয় ও গাড়ির গতিবিধির সিসিটিভি ফুটেজ দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে আমাদের কার্যালয়ে উঠি, ওইখানে সিসিটিভি আছে। আমি কাজ শেষে নেমে লুকিয়ে কিন্তু গাড়িতে উঠিনি। আমি ওপেন সবার সামনে উঠেছি। এতগুলো সাংবাদিক ছিল, তারাও কোনো ফুটেজ দেখাতে পারেনি। অথচ বলা হচ্ছে, আমার গাড়িতে করে তাকে আমি সরিয়ে দিয়েছি।’ মেয়রের দাবি, তিনি প্রকাশ্যেই সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যাতায়াত করেছেন। সেখানে বগার উপস্থিতির কোনো ফুটেজ থাকলে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
বগাকে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আনার অভিযোগ নিয়ে কথিত ‘ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের’ও সমালোচনা করেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘আজকে এতগুলো অনলাইন সাংবাদিক, আমার মনে হয় এদের রেজিস্ট্রেশনও নেই। আমি তাদের বলতে চাই, ওই ধরনের সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে সত্য কথা বলতে হবে।’
মেয়র বলেন, ‘আমি যখন গাড়িতে উঠছিলাম বা ঢুকছিলাম, তখন সেখানে ওয়াকিল ছিল-সেটি প্রমাণ করতে হবে। আর যদি প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’ শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ‘ওয়াকিলের কেউ তো এখানে আসেনি। ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে এসেছে।’
পুরো ঘটনাকে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘এটি পরিকল্পিতভাবে, সামনে যেহেতু নির্বাচন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের হয়ে ওসি ইনটেনশনালি এই কাজ করেছে।’
ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ তোলেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় বাকলিয়াতে একটি মেজবানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই ওসি খাবারের গাড়িটি পর্যন্ত নিয়ে গেছে।’
সবশেষে বগার সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে আসার অভিযোগ নিয়ে আবারও চ্যালেঞ্জ দেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘কেউ প্রমাণ দিতে পারে ওয়াকিল আমার অফিসে এসেছে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’