ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় সিজিএস আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের’ ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ২ হাজার নাগরিককে হত্যার দায়ে হাসিনাকে অভিযুক্ত করে প্রতিমন্ত্রী তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের কর্মকাণ্ডে ভারতের কোনো উপকার হবে না। বাংলাদেশে নতুন সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীলতা ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি দ্বিপক্ষীয় সফর হবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমেই তা সমাধান করব। মূল বিষয়টি খুব জটিল কিছু নয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলবল ভারতে অবস্থান করে সেখান থেকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটি ভারতের জন্যও সুফল বয়ে আনবে না।’ হাসিনাকে সংযত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ১৭ বছরেরও বেশি সময় শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। জনগণ অতীতের সেই দুঃশাসন থেকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ’ চায়।
ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি। ভারত পলাতক আওয়ামী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুটি দেশের মধ্যে এটাই স্বাভাবিক রীতি। তাদের সংযত করা গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সমস্যা থাকবে না।’
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে প্রধান ‘প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত কিন্তু পারস্পরিক সহযোগিতার প্রত্যাশা করে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দুই দেশের সরকার আলোচনায় বসলে সমাধান সম্ভব। ‘বাংলাদেশে বসে আমরা যেমন ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাউকে কাজ করার সুযোগ দেব না। ঠিক তেমনি ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।’