সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় রিমান্ড শেষে মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুর গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। মরিয়মের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী নজরুল ইসলাম তাকে বলেছিলেন, মৌখিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছে।
এদিন আসামি ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করা হয়। ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামি মো. ওবায়দুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি গাজী নজরুল ইসলাম যখন বাদীর বাসায় যাতায়াত এবং রাত্রী যাপনসহ বিভিন্নভাবে পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে থাকেন। তখন তিনি ওবায়দুরের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা বলতে থাকেন। গাজী নজরুল ইসলাম নিয়মিতভাবে ভুক্তভোগী মরিয়মের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বার্তা বলতেন। তিনি মরিয়মকে নিয়ে তার কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার সময়েও একান্তভাবে কথাবার্তা বলতেন। মরিয়মের সঙ্গে আসামি গাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন সময়ে একান্তে সময় কাটানোর বিষয়ে কথা বললে তিনি ওবায়দুরকে জানায়, মরিয়মের সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি মামা হিসাবে ওবায়দুর রহমান মেনে নিতে না পেরে মামলার বাদীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা কাটাকাটি হয়।
আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি ওবায়দুর বাদীর মেয়ে মরিয়ম ও আসামি গাজী নজরুলের রুমে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর ভিডিও ধারণ করার বিষয়ে গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এটি মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আসামির দেওয়া তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলছে। তাই মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য তাকে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে ১ অক্টোবর তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমান।
এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে ও গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মো. মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে উল্লেখ করে হলফনামা জমা দেন। তিনি আদালতকে জানান, তারা জামিন পেলে আমার আপত্তি নেই। শুনানি শেষে মাকছুদার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে গাজী নজরুলের জামিন নাকচ করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় বসবাস করত। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছেন।
শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।