স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের পরিবর্তনকালেও বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখবে দেশটি। ঢাকায় নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাকও রয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে-অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে সারাহ কুক এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচি বিশ্বের সবচেয়ে সহজ এবং উদার বাণিজ্য সুবিধা ব্যবস্থাগুলোর একটি। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও তিন বছরের পরিবর্তনকাল জুড়ে এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টি যুক্তরাজ্য স্বীকার করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ুজনিত নিরাপত্তাহীনতার মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকটেও বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বৃটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে, যুক্তরাজ্য তার স্বীকৃতি দেয়। রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংকটটির প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে কাজ করছে বৃটেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি চ্যালেঞ্জ, যেখানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ এক জায়গায় মেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে পড়ছে।
তিনি জানান, বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদারে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর একসঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো এবং পরিবেশসম্মত কার্বন বাজার গড়ে তুলতেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে যুক্তরাজ্য।