জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম দফা নগরের প্রায় ২০ হাজার স্থানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লার্ভা সার্চিংয়ের কার্যক্রম চালানো হয়। এর মধ্যে ৯০০টি স্থানেই মিলে এডিসের লার্ভা। নগরের হটস্পট ধরা হয়েছিল প্রবেশমুখ কদমতলীকে। ৫ দিনেই ওই এলাকায় ৪ জন রোগীর ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছিলো। দ্রুতই উদ্যোগ নেয় সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরু হয় কার্যক্রম। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ওই এলাকায় আর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেনি। বসে নেই সিসিক’র স্বাস্থ্য বিভাগ। নগরের প্রবেশমুখ গোটা দক্ষিণ সুরমা জুড়ে সতর্কতার সঙ্গে এডিসের লার্ভা সার্চিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গতকাল ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিসিক’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট নগরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে সিলেট সিটি করপোরেশন কয়েক মাস আগে থেকেই কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্যে প্রথম দুই মাসে নগরে ২০ হাজার স্থানে সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রথম সার্চিংয়ের চিত্র কিছুটা খারাপ হলে এখন চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের সার্চিং কার্যক্রম। দ্বিতীয় সার্চিংয়ে তেমন লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মাসখানেক আগে নগরে ১৪ জন ডেঙ্গু পজিটিভ মিলেছিলো। এর মধ্যে ৮ জনই ঢাকা ফেরত ছিলেন। গত এক সপ্তাহ ধরে নগরে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। তার মতে; সার্চিং কার্যক্রম আগে থেকে শুরু করায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতি মাসজুড়েই সিলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট নগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেনতা কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। প্রতিদিনই নগরে চলছে মাইকিং। মতবিনিময়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এবার নগরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত জেলায় ৯৩ জন রোগী ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে একজনের। ডেঙ্গু রোগীদের ওসমানী, শামসুদ্দিন সহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সিলেটের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই বাইরে থেকে আসা। ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে আসার কারণে পজিটিভের সংখ্যা বেশি। স্থানীয়ভাবে তেমন আক্রান্ত নয়। তবে সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর রোগীর জন্য দুই শয্যাবিশিষ্ট একটি কর্র্নার চালু করা হয়েছে। গত দুই বছর সিলেট জেলায় ডেঙ্গুর হটস্পট ছিল পর্যটন এলাকা জাফলং ও সাদাপাথর সহ কয়েকটি এলাকা। স্বস্তির বিষয় হচ্ছে- এবার ওইসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগী কম মিলছে। এসব এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক সচেতনতা চালানো হচ্ছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে বলা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে সিলেট বিভাগে গতকাল পর্যন্ত ৪৩৪ ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জে শনাক্তের সংখ্যা ১৮৭ জন। এছাড়া মৌলভীবাজারে ৪৪ ও সুনামগঞ্জে ৯৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের মধ্যে হবিগঞ্জ ডেঙ্গুর হটস্পট সেটি পুরোপুরি বলা যাবে না। ঢাকা সহ অন্যান্য এলাকার সঙ্গে এ জেলার যোগাযোগ বেশি। অনেকেই ঢাকায় চাকরি করে আবার ফিরে আসেন। বাইরের প্রচুর লোকজন বসবাসও করে। স্থানীয়ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা খুব কম। তবে ওই জেলা সহ সিলেট অঞ্চলে যাতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেজন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।