সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সরকারের করা মামলায় ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান সোহাগ। যদিও জুলাই বিপ্লবের পর তার মামলাগুলো নিষ্পতি হয়ে যায় বলে জানান প্রাথমিকের পরীক্ষায় শরীয়তপুর জেলায় ২২তম হওয়া এই প্রার্থী।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কারণে শাহবাগ থানায় ৫টি অজ্ঞাপনামা ও রমনা থানায় ৩টি মামলা হয়। ৩ মামলায় প্রায় ৮ মাস (১২ সালের নভেম্বর থেকে ১৩ সালের জুন পর্যন্ত) জেল খেটেছি। আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় সেসময় প্রাথমিকের সুপারিশ থেকে বাদ পড়েছিলাম, আর এখনও বাদ পড়লাম। অথচ আমার নামে করা মামলাগুলো নিষ্পতি হয়ে গেছে।
গত গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার ভেবেছিলাম, আজকে হয়তো নিয়োগপত্র ইস্যু হবে, কিন্তু আজও (১ অক্টোবর) হয়নি।’
আতিকুর বলেন, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের সময় শাহবাগে যে অজ্ঞাতনামা মামলাগুলো হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিতে আমাকে আসামি করা হয়। আগের মামলাগুলোর তথ্য নিয়ে প্রায় পাঁচটি অজ্ঞাতনামা মামলায় আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ ৮ মাস অপেক্ষার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র প্রদান শুরু হলেও ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া বাকি থাকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বাদ পড়াদের নিয়োগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক। কিন্তু জেলায় বাদ পড়া প্রাথমিকের অনেক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপত্র পেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক এই শিক্ষার্থী এখনো পাননি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, আতিকুর রহমান সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। আওয়ামী সরকারের মামলায় জেল খাটার কারণে ২০১৮ সালে অনার্স শেষ করেন তিনি। আর ২০১৯ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন হয় তার।
সোহাগ শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলা ও সখিপুর থানার কাচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা একজন মুদি দোকানি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় শরিয়তপুর জেলায় ১২৭ জনের মধ্যে আতিকুর রহমান সোহাগ ২২তম হন। ১২৭ জনের মধ্যে ৪ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আর ২ জন জমা দিলেও নিয়োগপত্র পাননি। তাদের মধ্যে আতিক একজন।