Image description

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা গাড়িটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বহু খোঁজাখুজি করেও সন্ধান পাননি। অবশেষে একটি জমি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার সময় বেরিয়ে আসে বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটি। আপাতত কবিরপুরের ডাম্পিং ষ্টেশনে এ ভ্যানটি রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে অবস্থিত পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে আড়ালে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী ও নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন মহলে কথা বলেছেন। জুলাই স্মৃতি যাদুঘর কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জেনেছে। তারা সংরক্ষণের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পুলিশ ভ্যানটি আপাতত কবিরপুরে সরকারি একটি ডাম্পিংয়ে রাখা হয়েছে। আদেশ নির্দেশ পেলে তারা পুলিশ ভ্যানটি যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেবেন।

অপরদিকে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার রিজার্ভ ফোর্সের অফিসার ইনচার্জ শহিদুল বলেন, ‘এটি নিতে হলে আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন হবে। নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট বিকাল তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন। একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে (যার মধ্যে একজন জীবিত) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার দুই বছরেররও বেশী সময় পর সেই ভ্যানটি উদ্ধার করা হলো।

এ ঘটনায় করা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, এফএফএম সায়েদ, আবদুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা, মুকুল চোকদার, রনি ভুইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এছাড়া সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুল্লাহিল কাফি, শাহীদুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, নির্মল কুমার দাস, আরাফাত হোসেন আরজুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরাফাত উদ্দিন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে।