ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স কিভাবে একজন অন্যায়কারীর পতন ঘটায় তার প্রমাণ দেখালো জামায়াত। একদল ভেঙ্গেছে, আরেকদল গিয়ে নির্মাণের জন্য অর্ধকোটি টাকা দিয়েছে। লজ্জায় সরকার তার দলীয় এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
আমরা অনেকেই মনে করতাম জামায়াত খালি গিয়ে গিয়ে টাকা দিয়ে আসে, সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিবাদ প্রতিরোধ, উত্তেজনা, সভা সমাবেশ আর হরতালের মত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিগুলো দিয়ে সরকারকে চাঁপে ফেলে কাজ আদায় করে না কেন?
২টা প্রশ্ন প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এত দানবীর হয়ে গেছে। রাজনীতির সমাধান রাজনীতি দিয়ে না করে চ্যারিটি দিয়ে করে কেন?
কার টাকা দিচ্ছে জামায়াত? কর্মীদের ঘাম আর শ্রমের টাকায় দেয়া এয়ানতের টাকা দেয়া কি ঠিক?
প্রথম প্রশ্নের জবাব হচ্ছে- ইসলাম একটা চ্যারিটি ভিত্তিক সমাজের উদাহরণ আমাদের সামনে হাজির করেছে। যে সমাজে অবশ্যই লাভ মুনাফা থাকবে, কিন্তু ক্যাপিটালিজম আর কঞ্জুমারিজমের মত প্রফিটই শেষ কথা না। শেষ কথা হলো এই প্রফিটে মানুষের উপকার হচ্ছে না ক্ষতি হচ্ছে?
ইসলাম দান সদাকাহ এবং কল্যাণময় যে সমাজের কথা বলে ইসলামী দল রাজনীতি করলেও তার রাজনীতি ঘুরে ফিরে মানব কল্যাণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণেই আবর্তিত হতে থাকবে। অন্যান্য দলের মত ক্ষমতা অপব্যবহার করার সুযোগ নেই বলে সেইসব দলের এই ক্ষমতা প্রদর্শনীর বীপরীতে তাঁকে দয়া বা অনুগ্রহের প্রদর্শন করেই তার প্রতিবাদ করতে হয়।
হ্যা, এটাও সত্য যে সঠিক পাওয়ার পলিটিক্স করতে পাওয়ারের উত্তাপে যে লম্বা সময়ের অনুশীলন প্রয়োজন হয় তার ঘাটতি থাকায় দলটি এখনো পাওয়ারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সে পাওয়ারের ব্যালেন্সটাও চ্যারিটির সাথে মিলিয়েই করতে হবে।
এবার আসেন সে কার টাকা দিয়ে আসছে এই ৫০লাখ? তার নিজের নেতা কর্মী শুভাকাঙ্খীরা তাকে যে টাকা দেয় সেই টাকা।
সরকার যখন টাকা বরাদ্ধ করে, সরকার টাকা পায় কই? জনগণের টাকাই তো। তো একটা দল যখন এটা দেখাতে পারে যে দেখো তোমরা মানুষের টাকা লুট করো, দূর্নীতি করো, আমরাও আমাদের জনতার টাকা কল্যাণে ব্যায় করি। অন্ততঃ আমাদের পক্ষে এই রাষ্ট্রের কল্যাণে খরচ করা সম্ভব। নিশ্চই এখন আমরা কর্মী বা সমর্থকদের টাকায় করছি, ক্ষমতায় গেলে দেশের টাকায় করতে পারবো।
এই যে একটা দলের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ক্ষতির বিপরীতে শুধু প্রতিবাদ নয়, ক্ষতিপূরণেরও আগ্রহ এটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রতুল।
যদিও সাধারণ মানুষ এইসব কতটুকু মনে রাখে তা সন্দেহমুক্ত নয়, যদিও এভাবে প্রতিদিন প্রতিটি ক্ষতির ক্ষতিপূরন সম্ভব নয়, কিন্তু এটাও অন্যান্য দলের জন্য এক ধরণের স্নায়ুবিক চাঁপ। এবং দেখেন সালমানের ঘটনার মাধ্যমে একটি অংশ রাড্ডার বিষয়টি আড়াল করে ফেলতে চাইলেও, সরকারের শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন অংশ ঠিকই এই বিষয়ে স্টেপ নিয়েছে।
জামায়াতের যেমন বিএনপিকে লাগবে, বিএনপিরও তেমনি জামায়াতকে লাগবে। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি মিলেই তো আমাদের নতুন বাংলাদেশ। কেউ ক্ষমতায়, কেউ বিরোধী দলে। কিন্তু সরকারে তো আসলে সবাই। সংসদে তো আমরা সবাই। দেশ আসলে আমরা সবাই মিলেই চালাই।
সবাই মিলেই দেশটাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।