৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেটে নাম আসেনি গোপালগঞ্জ জেলার নয় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর। তাদের মধ্যে সাতজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়ভিত্তিক মেধাক্রমে এগিয়ে থাকার পরও গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ফলে ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে তাদের বাদ পড়ার কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জের বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মো. নূরনবী শেখ বিষয়ভিত্তিক মেধাক্রমে পঞ্চম ছিলেন। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আহম্মদ উল্লাহ প্রথম এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সোহাগ মন্ডল তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।
এ ছাড়া সংস্কৃত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বিপ্লব বাড়ৈ পঞ্চম, ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শেখ আরাফাত কবির ১৫তম, ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বুশরা জাহান ১৪তম, দর্শন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শফিকুল ইসলাম ২৫তম এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. রাকিবুল ইসলাম ৩৭তম ছিলেন।
অন্যদিকে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়ভিত্তিক মেধাক্রমে ৩০তম ছিলেন।
গেজেটে নাম না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শেখ আরাফাত কবির বলেন, তিনি ও তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার নামেও কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত নয়জনের নামই চূড়ান্ত গেজেটে নেই। তার দাবি, বিষয়ভিত্তিক মেধাক্রমে অবস্থান থাকার পরও কেন তাদের নাম গেজেটে আসেনি, সে বিষয়ে তারা কোনো কারণ জানতে পারেননি।
গেজেট থেকে বাদ পড়া মো. নূরনবী শেখও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার নামে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা নেই এবং তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন।
নূরনবী শেখ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় রাতেও পাহারায় অংশ নেওয়ার দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার কারণেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
তবে গোপালগঞ্জের পরিচয়ের কারণে এসব প্রার্থী বাদ পড়েছেন, এমন কোনো সরকারি তথ্য বা নথি পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত গেজেটেও ৫৭ প্রার্থীর নাম না থাকার কারণ উল্লেখ করা হয়নি।