Image description

আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া শিল্প ক্লিনিকটি এখন পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এখন এই জমি নিয়েই স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার মধ্যে চলছে কাড়াকাড়ি। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দফায় দফায় নওয়াপাড়া পৌরসভাকে নোটিস দেওয়া হয়েছে ময়লা না ফেলার জন্য। শিল্প ক্লিনিকের স্থানটিতে আধুনিক ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ওদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট করতে চায়।

তবে শ্রমিকদের দাবি, নওয়াপাড়া শুধু শিল্পাঞ্চলই নয়, এখানে একটি নৌবন্দরও রয়েছে। এসব কিছু জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবনজীবিকা। তাদের জন্য শিল্প ক্লিনিকটি আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা হোক।

স্থানীয়রা জানান, নব্বইর দশকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাজঘাট এলাকায় দুই দশমিক ৬১ একর জমির ওপর ১০ শয্যার এ ক্লিনিকটি গড়ে তোলা হয়েছিল। নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধা দিতে গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ক্লিনিকসহ গড়ে তোলায় হয় আরও পাঁচটি ভবন। ২০টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে ক্লিনিকটি কখনই পূর্ণ সক্ষমতায় সচল হতে পারেনি। কিছুদিন চলার পর তা বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ক্লিনিকটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে। ভবনের দরজা, জানালা, গ্রিল সবকিছুই চুরি হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে যশোর-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।

ক্লিনিকের এ স্থানটি নওয়াপাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। এ ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শমসের আলম বলেন, নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের স্বার্থেই এ ক্লিনিকটি করেছিল সরকার। এখন নওয়াপাড়া নৌবন্দরও ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিক এসব জায়গায় কাজ করছেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা তাদের সন্তানদের একটা বিস্কুট কিনে দিতে পারেন না, চিকিৎসা করানো তো অনেক দূরের কথা। শিল্প ক্লিনিকটি চালু থাকলে শ্রমিকরা অনেক উপকৃত হতেন। হাইওয়েতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের দূরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই রক্তক্ষরণে মারা যায়। শিল্প ক্লিনিকটি থাকলে হাইওয়েতে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যেত। তাই ময়লার ভাগাড় না করে এখানে আধুনিক মানের ৫০ শয্যার একটা শিল্প ক্লিনিক বা ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

নওয়াপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আলীমুর রাজীব বলেন, শিল্প ক্লিনিকের স্থানটিতে ময়লা ফেলা বন্ধ ও ময়লার ভাগাড় অপসারণের জন্য পৌরসভাকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওই জমি ও স্থাপনার খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক ট্রমা সেন্টার, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় ট্রেনিং সেন্টার ও বিভাগীয় রেস্ট হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রশাসক শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নওয়াপাড়া পৌরসভার সব ময়লা ওই স্থানে ফেলা হচ্ছে।

ময়লার ভাগাড় সরিয়ে সেখানে ক্লিনিক বা অন্য কিছু করার সুযোগ নেই। সে কারণে স্থানটিতে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট তৈরির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার কোনো উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ করলে যদি সে কাজ না হয়, তাহলে জমিটি সরকারের অনুকূলে খাস হয়ে যায়। ওই জমিটিও খাস হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়েও এ বিষয়ে মিটিং হয়েছে। তারা সবাই ওই স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।’