Image description

রাজধানীতে সম্প্রতি আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্রশিল্প মেলার এক্সিবিশন হলে সমাবেশ ঘটেছিল স্বয়ংক্রিয় কাপড় কাটার যন্ত্র, রোবোটিক সেলাই মেশিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)চালিত বুনন প্রযুক্তির। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া একটি স্বয়ংক্রিয় রং ও ইন্ডাস্ট্রি বয়লার যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্টলে জমা পড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার দর্শনার্থীর ব্যবসায়িক পরিচিতি কার্ড। গতানুগতিক নিয়মে এই সাড়ে তিন হাজার নম্বরে মুঠোফোনে কল দেওয়া কিংবা সাধারণ খুদেবার্তা পাঠাতে সময় ও অর্থ দুটোই প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট দর্শনার্থীদের মধ্যে কে নতুন পোশাক কারখানা খুলছেন, কার যন্ত্রাংশের প্রয়োজন, আর কে কেবল নতুন প্রযুক্তি দেখতে এসেছেন, তা আলাদা করা মানুষের পক্ষে বলা প্রায় অসম্ভব বা সময়সাপেক্ষ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এবার হাঁটল ভিন্ন পথে। মেলা শেষ হওয়ার পরদিন এআইচালিত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির (কাস্টমার রিলেশন্স ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজি) মাধ্যমে সংগৃহীত সাড়ে তিন হাজার নম্বরে একযোগে একটি বিশেষ বার্তা পাঠায়। বার্তায় সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, গ্রাহক কী নতুন যন্ত্র খুঁজছেন, নাকি বর্তমানে থাকা যন্ত্রের যন্ত্রাংশ উন্নত করতে চান। বার্তা পাওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের উত্তরের ওপর ভিত্তি করে তাদের বাছাই করতে শুরু করে। এর মধ্যে ২ হাজার ২০০ জন কোনো সাড়া দেননি। 

আরও ১ হাজার ব্যক্তি জানান যে তারা কেবল সাধারণ তথ্যের জন্য যুক্ত হয়েছেন। তবে ৩০০ জন উদ্যোক্তা সরাসরি বার্তা দিয়ে জানান যে তারা আগামী দুই মাসের মধ্যে কারখানা সম্প্রসারণ বা নতুন যন্ত্র কেনার পরিকল্পনা করছেন। ওই ৩০০ জনের সঙ্গে বার্তা বিনিময়কারী প্রযুক্তিটি তাৎক্ষণিক আরও কয়েকটি প্রশ্ন করে তাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রের ধরন জেনে নেয়। এভাবে এআইয়ের সহযোগিতায় দ্রুত কোম্পানিটির বিক্রয় প্রতিনিধিদল সুনির্দিষ্ট সেই ৩০০ জন সম্ভাবনাময় ক্রেতার বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তারা প্রকৌশলীসহ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কারখানা পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করেন। এভাবেই অর্থনীতির বিভিন্ন খাত এখন এআইনির্ভরতার দিকে যাচ্ছে। এতে একদিকে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে গতি বাড়ছে সামগ্রিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই কেবল একটি প্রযুক্তি নয়, এটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি। সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা তাঁদের কারখানার উৎপাদন লাইনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)চালিত ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি ও ডিভাইসের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পোশাক খাতে এখন এআই ব্যবহার হচ্ছে। একই সঙ্গে খাতটি দ্রুত অটোমেশনের দিকেও যাচ্ছে। 

তবে সব অটোমেশন এআই দ্বারা হচ্ছে না। এআই ব্যবহারের পাশাপাশি পোশাক খাতের শ্রমঘন বৈশিষ্ট্যও থাকবে। মূল বিষয় হলো, দক্ষতা বাড়ানো। আমাদের এখন এআই ব্যবহার হচ্ছে শিপিং ডকুমেন্টস তৈরি করতে। এআই ব্যবহার হচ্ছে মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে, এআই ব্যবহার হচ্ছে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। এআই ব্যবহার হচ্ছে মার্কেটিং, মার্চেন্ডাইজিংয়ের জন্য। এআই ব্যবহার হচ্ছে ডিজাইন ডেভেলপের ক্ষেত্রে। মোটকথা এআইর ব্যবহার বাড়ছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্পকারখানা এআই ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এরই মধ্যেই দেশের কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, সেবা খাতে এআই ও রোবটিক্সের ব্যবহার বাড়ছে, যা পণ্যের মান বৃদ্ধি, অপচয় হ্রাস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারখানাগুলোর কর্মপদ্ধতি মৌলিকভাবে বদলে দিচ্ছে।