কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। পথে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে হঠাৎই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়ার সময় নিজেই অবতীর্ণ হন শিক্ষকের ভূমিকায়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা ইউএনওর নলুয়া মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পেরপেটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ইউএনও শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়ার দক্ষতা যাচাই করেন। কে কতটা সাবলীলভাবে পড়তে পারছে, তা নিজে শুনে দেখেন। পরে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই পাঠদান শুরু করেন। ইউএনওর কাছ থেকে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরাও মনোযোগ দিয়ে তার পাঠদান অনুসরণ করে।
এ সময় বরুড়া উপজেলার ইউএনও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই শুধু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রিডিং দক্ষতা ভালো হলে শিশুর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে।
তিনি বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
পরে আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি।
আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পেরপেটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহেল পারভেজ, আদ্রা ভূমি কর্মকর্তা মনির হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা।