Image description

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। আইন অনুষদের নিজস্ব শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের অধ্যাপককে ডিন নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

‎এরআগে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। সংশ্লিষ্ট অনুষদের শিক্ষককে দায়িত্ব না দিয়ে অন্য বিভাগের অধ্যাপককে ডিন নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

‎এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী নায়মুর রহমান দুর্জয় জাগো নিউজকে বলেন, ‘একটি বিভাগ ১০ বছর ধরে চলছে, অথচ এখনো একজন অধ্যাপক নিয়োগ দিতে পারেনি প্রশাসন। এটি তাদের বড় ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ীও এমনটি হওয়ার কথা নয়। পদাধিকারবলে উপাচার্য দায়িত্ব পালন করলে সেটি ভিন্ন বিষয়। অন্যথায় নিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা।’
‎
‎তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের বিভাগের শিক্ষকরা কি এ দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন, নাকি তারা কোনো রাজনীতির শিকার?’
‎
‎তবে নবনিযুক্ত ডিনের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও আইন শিক্ষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব, অমায়িক ও যোগ্য একজন শিক্ষক। তার নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে আইন শিক্ষা অন্যান্য অনেক বিষয়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ও পেশাভিত্তিক। আইন বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত প্রস্তুতি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিনের সরাসরি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন অনুষদের ডিন হিসেবে বিভাগের যোগ্য কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়াই শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর কার্যকর ও কল্যাণকর হবে বলে মনে করি।’

‎‎
এ বিষয়ে ‎আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘আইন বিভাগ এখন প্রায় সব দিক থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো আইন অনুষদের শিক্ষকদের হাতেই থাকা উচিত।’
‎‎
‎নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নিয়ম হলো জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ডিন হবেন। এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক না থাকলে সহকারী অধ্যাপক ডিন হবেন। কিন্তু আইন বিভাগ থেকে যাকে ডিন করা যায়, তাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাই সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
‎
‎অন্য বিভাগের শিক্ষককে ডিন নিয়োগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে উপাচার্য বলেন, ‘আগে আইন ও বিচার বিভাগ কলা অনুষদের অধীনে ছিল। পরে আলাদা অনুষদ করা হয়েছে। ডিনদের কাজ তো আলাদা নয় যে, নির্দিষ্ট বিভাগ থেকেই দিতে হবে। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি যথেষ্ট শিক্ষার্থীবান্ধব ও শান্তশিষ্ট মানুষ।’