Image description

সাভারের আশুলিয়ায় তাহফিজুল কোরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মামলা করেন মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ।

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এজাহারে ইমাম হাসানকে (৫০) প্রধান এবং দুই নম্বর ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনকে (৪৭) দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে । এছাড়া আরও ১২ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে মাদ্রাসার মার্কেট নিয়ে পরিচালনা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে ইমাম ও জাকিরের নির্দেশে মাদ্রাসা এবং মার্কেট দখলের চেষ্টা হয়। এ সময় মাদ্রাসার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. আলতাব হোসেন (৬৫) বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আসামিরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

এছাড়া মাদ্রাসার লকার ভেঙে নগদ ২০ লাখ টাকা, আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার দুটি ল্যাপটপ এবং প্রায় ২ লাখ টাকার ১০টি কম্পিউটার মনিটর লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

জাকির হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল গফুর বলেন, ‘তিনি ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তবে মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।’

 

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দাবি করেন, ‘সৈয়দ সানজিদের সঙ্গে মাদ্রাসার কোনো সম্পর্ক নেই। সে জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছিল, তাই স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছে।’

 

মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনা খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।