Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। বিশেষ করে নারীদের খেলাধুলা, পোশাক ও এসব আয়োজন প্রকাশ্যে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

রবিবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

একসময় ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন জানিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলাম ডাকসুতে সাদিক কায়েম জয়ী হওয়ার পরে। সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে চেয়েছিলাম। চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন।’

তিনি লেখেন, ‘কারণ একটাই—এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হইছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয়—আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।’

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে—এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা—এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

তবে এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আদর্শ ও ধর্মীয় বিধানের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা ত মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের বাস্কেটবল খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক জায়গা নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না—তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী? বিষয়টা শুধুমাত্র খেলার নয়, বিষয়টা হলো শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সাথে উপস্থাপন করা। আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।’

সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করা তরুণীদের ওপর এসব কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘কারণ সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে ফলো করে, নেতা মনে করে। তারা যখন দেখে সাদিক কায়েম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ অনেক হুজুরের সাথে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন—তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক।’

মারজিয়া মমতাজের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, ‘মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই, তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ!’

এ বিষয়ে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘তাই আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব—প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন। কারণ যেসব মেয়েরা সাদিক কায়েমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়িম সহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!’

শুধু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দিয়ে কাউকে মূল্যায়ন না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রফিকুল ইসলাম লেখেন, ‘বিষয়টা শুধুমাত্র উন্নয়নের না, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি; তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ।’

শেষে তিনি লেখেন, ‘স্পষ্ট কথা—এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয় ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায় সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না। আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’