প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সব পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে চূড়ান্ত সুপারিশকৃত তালিকা থেকে হাজার খানেক প্রার্থীকে কথিত গোয়েন্দা রিপোর্টের কারণে বাদ দেয়া হয়েছে বলে খবর দেখলাম।
ফেসবুকে অনেকে অভিযোগ করছেন, বাদ পড়াদের মধ্যে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থী রয়েছেন।
রিসেন্ট আরও খবর দেখলাম, গণহারে ডিসি/এসপিদের ওএসডি করা হচ্ছে। এবং ব্যক্তিগতভাবে দুই তিনটা এমন ওএসডির খবর জেনেছি যেখানে আওয়ামী পরিবারের বাট নিরীহ অফিসার কিম্বা নন আওয়ামী নিরীহ অফিসার যারা খুব বড় পোস্টিং কখনো পাননি আওয়ামী আমলে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের কোন সলিড প্রমাণ নেই-- তারা ওএসডি হয়েছেন।
এগুলো খবুই ডিস্টার্বিং খবর। এবং সরকারের জন্যও খুবই খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের দরকার একোমোডেটিভ হওয়া; অবশ্যই সৎভাবে। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী অপরাধীদের একোমোডেট করা নয়। বরং আইন ও ন্যায়বিচার দৃষ্টিতে একজন আওয়ামীকেও এই ফিলিংস দিতে পারতে হবে যে, "আমিও এই সরকারের দ্বারা ইনজাস্টিসের শিকার হবো না"। আপনি যদি সত্যিকারের জাস্টিস এনশিউর করতে পারেন একজন নিরীহ আওয়ামী অফিসারের প্রতি, আপনি তার সার্ভিস পাবেন। আপনার দরকার যথাযথ সার্ভিস পাওয়া। কিন্তু অপরাধী নয় এমন অফিসারদের জাস্ট তার পলিটিকাল চিন্তা বা পারিবারিক এফিলিয়েশনের কারণে তাকে এলিয়েনেট করলে আপনি শত্রু বৃদ্ধি করছেন। জোর করে অপোজিট ক্যাম্পে তাকে ঠেলে দিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে আপনার হাইলি ট্রাস্টেড/অনুগত লোক দেবেন, সমস্যা নেই। কিন্তু যে অপরাধী না বা কোন কন্সপাইরেসি করছে এমন প্রমান নেই তার প্রতি ইনজাস্টিস করবেন না, সে যে রকম পলিটিকাল চিন্তার হোক।
আর প্রাথমিকে এভাবে ভেরিফিকেশনের নামে গণহারে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেয়া তো অপরাধ। এসব পোস্ট কোন পলিটিকাল পোস্ট না। ফলে আনুগত্যের প্রশ্ন নেই। ভেরিফিকেশনের নামে এদের বাদ দেয়ার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। শিক্ষক আওয়ামী নাকি বিএনপি নাকি জামাতি এসব বিবেচ্য হবে কেন? বিবেচ্য হবে কে যোগ্য? যোগ্যতম হিসেবে প্রমাণ দেয়ার পর তাদেরকে অপেক্ষা করিয়ে চাকরি না দেয়া মারাত্মক অবিচার।
এই ধরনের বাদ দেয়ার ঘটনা মোটেও নিরীহ নয়। এসবের পেছনে বড় নিয়োগ বানিজ্যের পরিকল্পনা থাকা অস্বাভাবিক নয়।
এই বাতিলের ঘটনায় মানুষের কাছে যে বার্তা যাবে তা সরকারকে ভোগাবে। কেন অদরকারী দায় নিচ্ছে সরকার?