Image description

আদালত বসেনি। আসামিকেও উঠতে হয়নি কাঠগড়ায়। কোনো শুনানি বা জামিনের আবেদন ছাড়াই জামিনের রিকল তুলে দেয়া হয় আসামির হাতে। এমন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মুহুরীর বিরুদ্ধে। সূত্রমতে, নারী নির্যাতন মামলার আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা এলাকার শাহ আলম বুদার ছেলে জান্নাতুল ইসলাম।

সম্প্রতি জামিনের জন্য আদালতের মুহুরী শাহিনের কাছে যান। পরে শাহীন মিয়া জান্নাতুলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গাজী আলী আহসানের কাছে যান। এ সময় তার কাছ থেকে মামলা নিষ্পত্তি ও জামিন বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু জান্নাতুল আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেননি।

২১শে সেপ্টেম্বর মুহুরী শাহীন ও বেঞ্চ সহকারী গাজী আলী আহসান জান্নাতুলের হাতে স্বাক্ষরিত জামিনের রিকল তুলে দেন। দেখা যায় জামিনের রিকল ভুয়া। ভুক্তভোগী জান্নাতুল বলেন, আদালত থেকে আমাকে ফোন করে বলা হলো জামিন হয়ে গেছে। পরে থানায় রিকল জমা দিয়ে দেখি এটি ভুয়া। আদালত সূত্র জানায়, ২১শে সেপ্টেম্বর বিচারক না থাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালত বসেনি। তাই কোনো মামলারই শুনানি হয়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী গাজী আলী আহসান বলেন, রিকল আমি দেইনি। রিকলটা তারা ভুয়া তৈরি করে থানায় দাখিল করেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করবেন বলে জানান। মুহুরী শাহীন মিয়া বলেন, আমি দরখাস্ত ২২ তারিখেই দিছি, রিকলটা যে হইছে আমি জানি না। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর মুহুরী শাহীন আদালতের এক আইনজীবীর মাধ্যমে ২২শে সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে ওই আসামির জামিনের আবেদন করেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর আবু বকর সিদ্দিক ছানা বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।