নির্মম, নিষ্ঠুর। মাত্র ৭ বছরের শিশু বায়েজিদ বিন মাহমুদের আঙ্গুল কেটে দিয়েছে এক পুলিশ কনস্টেবল। নিজের মেয়ের সঙ্গে ঝগড়ার প্রতিশোধ নিয়েছে আঙুল কেটে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, নাটোরে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বায়েজিদ বিন মাহমুদের ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল কেটে ফেলে। এ ঘটনায় মো. শাকিল (৩৮) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর শহরের হরিশপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটিকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সদর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কনস্টেবল স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে ওই বাড়িতে আয়োজিত পারিবারিক পিকনিকে কনস্টেবলের মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু বায়েজিদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. মাহমুদুল হাসান মিলন (৪৫) মানবজমিনকে জানান, বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙ্গুলের অংশ নিয়ে কান্না করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে।
শিশুটি তার মা’কে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙ্গুল কেটে দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মা মোছা. রাশেদা আক্তার (৩৫) বলেন, শিশুর বাবা ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি প্রতিবেশীদের সহায়তায় ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যান। নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, শিশুটির ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
এদিকে ছেলে শিশুটি পুলিশ কনস্টেবলের মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে বলে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল। মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম। তবে মেয়ে শিশুর বাবা-মা এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর কনস্টেবল দম্পতি মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে যান। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন আঙ্গুলের অংশ পাওয়া যায়। নাটোর সদর থানার ওসি মো. মনসুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, শিশুটির বাবার মামলায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মৌখিক অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।