গুলশানে প্রাইভেটকার চাপায় মেহেদী হাসান নামে এক নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই কিশোরের গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মো. রুহুল কবীর খান স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেই ড্রাইভিং সিটে থেকে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছে। এখন আদালতে গিয়ে জবানবন্দি দেবে।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার ওঠে যায়। তখন ফুটপাথে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। প্রাইভেটকারের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। তবে সেই মামলায় ড্রাইভিং সিটে থাকা কিশোরের বদলে আকাশ মারুফ নামে ওই প্রাইভেটকার চালককে আসামি করা হয়। যদিও তিনি চালকের আসনে ছিলেন না।
পুলিশ জানায়, আকাশ মারুফ যেহেতু গাড়িটির চালক ছিলেন, তিনি কেন অন্যের হাতে গাড়ি চালানোর জন্য দিলেন- এ অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছে। এখানে তার দায় রয়েছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরকে আটক করা হয়। আটকের পর ওই কিশোর আমাদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছে।
দুর্ঘটনার পরপর আশপাশের লোকজন প্রাইভেটকারের ড্রাইভিং সিটে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে মামলার এজাহারে ভিন্ন নাম জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা হলে পুলিশ আবার তাকে আবার আটক করে।
গুলশান থানায় করা মামলার এজাহারে কিশোরের নাম নেই কেন জানতে চাইলে উপকমিশনার রুহুল কবীর বলেন, মামলার এজাহার হচ্ছে প্রথম তথ্য। মামলার এজাহারে নাম থাকুক আর নাই থাকুক সেটাতে আসামির বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালতে বিচারকাজ চলে।