Image description

নওগাঁর বদলগাছীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পালাতে সহায়তার অভিযোগে পুলিশের এক এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার নাম অসিত কুমার।

জেলা পুলিশ সুপারের ভাষ্য, প্রথম দফায় ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে পালাতে সুযোগ করে দেন বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমার। যার কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে ছাত্রলীগের ওই নেতাকে আবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃত রাকিবুল হাসান বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের আক্কেলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুলর বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই কারণে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করতে যান বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমার। কিন্তু সেখানে অবহেলা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনা জানতে পেরে রাতেই তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এসআই অসিত কুমার আবারও ওই দিনেই ভোররাতে রাকিবুলর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে এসআই অসিত কুমার বলেন, ‘প্রথমবার যখন গ্রেফতারের চেষ্টা করেছি তখন রাকিবুল টের পেয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। কিন্তু কে বা করা প্রচরণা চালায় যে, টাকার বিনিময়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দিয়েছি। এসব অভিযোগ একদমই সত্যি নয়। দ্বিতীয় দফায় আমিই ওই রাকিবুলকে গ্রেফতার করেছি। ছাত্রলীগ হিসেবে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না।’

 

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রথমে রাকিবুলকে পেয়ে ছেড়ে আসা হয়েছে—এমন একটি অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে যাওয়ার পর এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওই এসআই রাকিবুলকে গ্রেফতার করেন।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার রাকিবুলকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই এসআই অসিত কুমারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।প্রথমবার কেন পালিয়ে গেলো, সে জন্য তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। দায়িত্ব পালনের সময় ওই এসআইয়ের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’