Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দাওয়াতে গরুর মাংস খেয়ে তিনজন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে অসুস্থ গরুর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া ২৬ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ দেখা দেয়। এ নিয়ে উপজেলার ৪ গ্রামে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১।

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের মো. হায়দার আলী নামের এক যুবক স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দাওয়াত খেতে যান তার ভাগ্নির বাড়িতে। গরুর মাংস দিয়ে খাওয়া-দাওয়ার পর রাতে দেখা দেয়, তাদের জ্বর ও মাথাব্যথা। ফোস্কা পড়ে হাত, পা ও শরীরে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্ত্রী আমিনা বেগম ও শিশু সন্তান আদিলকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন হায়দার আলী। সেখানেই জানতে পারেন গায়ে ওঠা এসব ফোস্কা অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ।

 
 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, হাত, পা ও পেটে ফোস্কার যন্ত্রণায় বিছানায় শুয়ে আছেন হায়দার। ফোস্কার যন্ত্রণা উপশম পেতে ফোস্কা পড়া জায়গাগুলোতে চুন লাগিয়ে রেখেছেন তিনি। আর শিশু আদিলের হাতের তালু, হাত ও পায়ে দেখা দিয়ে পানির মতো জ্বলজ্বলে ফোস্কা। বেশ কয়েকটি ফোস্কা পড়েছে আমিনার পিঠের দুই পাশে।

 
 

হায়দার আলী কালবেলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাই দাওয়াত খেতে। সেখানে গরুর মাংস দিয়ে খাবার খাই। তারপর রাত থেকে তিন জনের শরীরে জ্বর ও মাথাব্যথা শুরু হয়। সকালে দেখি, সবার শরীরে ফোস্কা পড়েছে। পরে হাসপাতালে যাই এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিয়ে চলে আসি।

 

এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করেন। আর সেই মাংস কাটায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। এর ৪ দিন পর শরীরে জ্বর আসে ৪ জনের। পরে কারো পেট, কারো হাত, কারো পা, আবার কারো হাতের আঙুলে দেখা দেয় ফোস্কা।

এরপর গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আক্রান্ত হন আরো ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। তারা হলেন, জয়নাল আবেদীন, রুমি বেগম, রশিদা বেগম, আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম, চান মিয়া, শফিক জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রশিদ, গোলেজান বেগম, রাবেয়া খাতুন, রাহেলা খাতুন, শরিতোন নেছা, দোলেনা আকতার, আজমিন আরা, ফাহিমাা, ফুলমতি বেগম এবং শিশু নুর আকাইদসহ ২০ জন। এদের মধ্যে প্রথম ৩ জনের অবস্থা ছিল গুরুতর। আক্রান্তরা গত শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ওষুধপত্রসহ বাড়িতে ফেরেন।

এদিকে, গত দুই দিনে বাছহাটির ঘটনায় নতুন করে আরো আক্রান্ত হন ৬ জন। এছাড়া দহবন্দের বামনজলে ১ জন ও সোনারায় শিবরাম গ্রামে ১ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পৃথক ওই দুই গ্রামসহ উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২৬ জন, বাজারপাড়া গ্রামের ৩ জন, দহবন্দের বামনজল গ্রামের একজন ও সোনারায়ের শিবরামের একজনসহ ৩১ রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশাকরি, তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘গরুকে টিকা দেওয়া কার্যক্রম চলমান থাকার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই নিষেধ করা হয়েছে।