রাতে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল সাত বছরের মরিয়ম। ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করে সে। শরীরে যন্ত্রণার কথা বলেই মায়ের কাছে জানতে চায় তাকে তার মা কামড়িয়েছেন কি না, পরে শরীর ও পায়ের চিহ্ন দেখে সাপের কামড়ের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয় স্বজনরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শিশুটির।
আজ মঙ্গলবার ভোরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে নানাবাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছিল শিশুটি।
শিশু মরিয়ম উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের পুরাতন বাখরবা গ্রামের সজিব হোসেনের মেয়ে।
মরিয়মের নানি রুপালী বেগম জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে মায়ের সঙ্গে হরিহরা গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে মরিয়ম। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে মায়ের পাশেই ঘুমিয়ে ছিল সে। ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে শরীরে কান্না করতে করতে প্রচণ্ড যন্ত্রণার কথা জানায়। একপর্যায়ে ভোরে মরিয়ম তার মাকে বলে, মা তুমি কি আমাকে কামড়াইছো। ওই কথা বলার পর মুখ দিয়ে লালা পড়তে পড়তে ঢলে পড়ে। পরে তার শরীর ও পায়ে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এহেতেশাম শহিদ জানিয়েছেন, ভোরে মরিয়মকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। শরীরে কালাচ সাপের দুটি কামড়ের দাগ স্পষ্ট ছিল। তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। ততক্ষণে তার শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, বর্ষা ও বর্ষাপরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলে বিষধর সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ সময় ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।