নিয়োগের দুই মাস না পেরোতেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তন করায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে তাঁরা ক্যাম্পাসে এ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে বহাল রাখতে হবে।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর প্রকাশের পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানান।
এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের প্রায় দুই মাসের মাথায় তাঁর স্থলে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিল সরকার।
অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। সোমবার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে এসে নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর স্থলে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম কুয়েটের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাঁকে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
নতুন করে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি মেনে নিতে নারাজ অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। তিনি প্রাথমিকভাবে উপাচার্য হিসেবে ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমার মিশন-ভিশন এটাই। আমি জানি না কেন বাদ দিল।’
তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ নিয়ে সোমবার নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও গিয়েছিলেন। ঢাকায় অবস্থান করেই তিনি জানতে পারেন, সরকার চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাক করবো ক্যাম্পাসে।’