Image description

শুক্রবার বিকালে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছরের ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম। তারপর আর ফেরেনি। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ফোনের সর্বশেষ অবস্থানও শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় তার মরদেহ। মাথায় ছিল আঘাতের চিহ্ন। সঙ্গে থাকা আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা নাগাদ তদন্তে কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাদের মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য ও লোকেশন অপ্রতিমের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হেফাজতে থাকা তিনজন হত্যায় জড়িত কিনা, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

অপ্রতিমকে জীবিত উদ্ধার করতে না পারার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নিখোঁজের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টায় প্রযুক্তি, পুলিশি তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর ছিল, সেই প্রশ্নও উঠেছে। একইদিনে সুনামগঞ্জে তিন শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু, মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিন মরদেহ উদ্ধার, খুলনায় পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এবং গাজীপুরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে অপরাধ ঠেকানো এবং ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতায় কোনও ঘাটতি আছে কিনা, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

একদিনের চিত্রই উদ্বেগের

কুমিল্লার অপ্রতিমের ঘটনা ছাড়াও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনায় অন্তত পাঁচটি পৃথক নৃশংস বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ৯টি মরদেহ উদ্ধার বা মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এটিও কোনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়। গণমাধ্যমে আসা দিনের খবরমাত্র।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর এক বাবা নিজেও বিষপান করেছেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিন শিশুই মারা গেছে। বাবা হাসপাতালে। মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে চোর সন্দেহে মারধরের পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের পূবাইলে একটি ভাড়া বাসার চিলেকোঠা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর বাইরে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকার কাছেই এক রিকশাযাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া এবং পায়ে ছুরিকাঘাতের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব ঘটনার ধরন ও প্রেক্ষাপট আলাদা। তাই সবকিছুকে একই অপরাধপ্রবণতার চিত্র দেখা না হলেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এমন খবর সামনে আসায় নাগরিক নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং ঘটনার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সহিংসতার শিকার হয়ে ২৫৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন। বেশিরভাগই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৮১টি। এছাড়াও সহিংসতার শিকার হয়েছে ৭০৯টি শিশু। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪১৪টি। আসকের জানুয়ারি-আগস্টের শিশুসহিংসতা ও শিশুমৃত্যুর পৃথক পরিসংখ্যানও প্রকাশিত হয়েছে।

‘প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনাটি শুধু একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া ও পরে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নয়। এটি আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ব্যবস্থার একটি গুরুতর সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। শিশুটির সঙ্গে একটি আইফোন ছিল এবং পুলিশ ফোনটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শুধু সর্বশেষ সংযুক্ত বিটিএস (বেইজড ট্রান্সসিভার স্টেশন) বা টাওয়ারের ঠিকানা পাওয়া মানেই ফোনটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান পাওয়া নয়। একটি বিটিএস কয়েকশ মিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কাভার করতে পারে। ফলে শুধু টাওয়ারের ঠিকানা নিয়ে মাঠে নামলে অনুসন্ধানের এলাকা অনেক বড় হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আরও গভীর নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ প্রয়োজন ছিল। ফোনটি চালু এবং মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধিত থাকা অবস্থায় সার্ভিং সেল, সেক্টর, টাইমিং অ্যাডভান্স, হ্যান্ডওভার, পেজিং রেসপন্স এবং ধারাবাহিক নেটওয়ার্ক ইভেন্টস বিশ্লেষণ করে তার সম্ভাব্য চলাচলের পথ ও অনুসন্ধানের এলাকা অনেকটাই সংকুচিত করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে জরুরি আইনি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় নেটওয়ার্ক লোকেশন এবং অ্যাপল ফাইন্ড মাই সম্পর্কিত তথ্যও যাচাই করা যেতো। তবে এটাও পরিষ্কার বলা দরকার, প্যাসিভ লোকেশন সব পরিস্থিতিতে জিপিএস-এর মতো নির্ভুল অবস্থান দেয় না। ফোন বন্ধ, নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন বা ডেটা অনুপস্থিত থাকলে সীমাবদ্ধতা থাকবে। তারপরও শুধু একটি বিটিএস ঠিকানায় থেমে না থেকে সব ধরনের টেলিকম ও ডিজিটাল সূত্র দ্রুত সমন্বয় করা হলে উদ্ধার অভিযানের কার্যকারিতা অনেক বাড়তে পারতো। এই ঘটনায় কোন তথ্য কখন পাওয়া গিয়েছিল, কে বিশ্লেষণ করেছিল এবং সেই অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তার একটি নিরপেক্ষ টেকনিক্যাল আফটার অ্যাকশন রিভিউ প্রয়োজন।’

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনাকে আর সাধারণ নিখোঁজ ডায়েরির মতো দেখা উচিত নয়। প্রথম কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও শিশু স্বেচ্ছায় চলে গেছে, প্রলোভনের শিকার হয়েছে, অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করতে গেছে, অপহৃত হয়েছে, পাচারের শিকার হয়েছে, অথবা অন্য কোনও অপরাধের মধ্যে পড়েছে, শুরুতেই তা জানা যায় না। এনক্রিপ্টেড মেসেজিং, গেমিং প্ল্যাটফর্ম, গোপন অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন গ্রুমিং এই ঝুঁকিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে একটি ২৪ ঘণ্টার বিশেষায়িত মিসিং চাইল্ড রেসপন্স ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। সেখানে শিশু তদন্ত, টেলিকম লোকেশন, ডিজিটাল ফরেনসিক, সাইবার প্যাট্রোলিং, মানবপাচার, সিসিটিভি বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষিত সদস্য থাকতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও অপেক্ষার সময় ছাড়াই একটি জাতীয় ডাটাবেজে তথ্য অন্তর্ভুক্ত হবে এবং টেলিকম অপারেটর, ৯৯৯, ইমিগ্রেশন, পরিবহন কেন্দ্র, সীমান্ত এলাকা ও সংশ্লিষ্ট থানাকে একযোগে সতর্ক করা হবে। প্রয়োজনে শিশুর গোপনীয়তা রক্ষা করে দ্রুত জনসতর্কতাও জারি করা যেতে পারে।’

‘প্রতিটি শিশুর জীবন সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ফোন চালু থাকা পর্যন্ত পাওয়া সম্ভাব্য ডিজিটাল সূত্র যেন কেবল একটি বিটিএস ঠিকানায় সীমাবদ্ধ না থাকে। সেটিকে দ্রুত বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের অভিযান এবং আন্তসংস্থা সমন্বয়ে রূপান্তর করতে হবে। আমরা যেন আর কোনও শিশুকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাব্য সময় হারিয়ে ফেলার পর শুধু তার মরদেহ উদ্ধারের সংবাদ না পাই।’

সক্ষমতা আছে, কিন্তু কতটা কাজে লাগছে?

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ আগের তুলনায় অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। কেউ পরিস্থিতির অবনতি করতে চাইলেও পারবে না। তবে পুলিশকে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র কো অর্ডিনেটর আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী শিশুপুত্র অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা পর একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ পুলিশ, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও দ্রুততম তৎপরতা প্রয়োজন। এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এটি স্বাভাবিকভাবেই নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। এর সঙ্গে মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু নিখোঁজ ও হত্যার খবর যুক্ত হওয়ায় মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, অপরাধ সংঘটনের আগে প্রতিরোধ এবং ঘটনা ঘটার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা কতটা কার্যকর রয়েছে।’

‘তবে এসব ঘটনার ভিত্তিতে পুলিশের সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। বরং দেখতে হবে, ঝুঁকি আগে থেকে শনাক্ত করা, নিখোঁজ বা অপহরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, আন্তঃইউনিট সমন্বয় এবং অপরাধী শনাক্ত করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। পুলিশের সক্ষমতার প্রকৃত পরীক্ষা শুধু অপরাধী গ্রেফতারই নয়, অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করার মধ্যেও নিহিত। আমরা নাগরিকেরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভাগকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর দেখতে চাই।’

‘ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলার সময় এখনও আসেনি’

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। দেশে দীর্ঘদিন ধরেই শিশু-কিশোর নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সূত্রে কয়েক হাজার শিশু-কিশোর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরে ফিরে এসেছে, আবার অনেকে আর ফেরেনি।’

কুমিল্লার ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দামি একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে দামি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার বা নগদ অর্থ থাকছে কিনা, তারা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে এসব বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।’

নূর খান লিটন বলেন, ‘অনেক সময় মূল্যবান জিনিস বা অর্থের লোভে সহপাঠী, পরিচিতজন কিংবা অপরাধীরা শিশুদের অপহরণ করে। কখনও মুক্তিপণও দাবি করে। তাই এ বিষয়গুলোকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ ছোট একটি অসতর্কতা থেকেও এমন অপূরণীয় ঘটনা ঘটতে পারে, যার ক্ষতি একটি পরিবারের পক্ষে আর কখনও পূরণ করা সম্ভব হয় না।’

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ বা ঢাকা। বিভিন্ন জায়গায় যে ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে, সেটি একেবারে নতুন কোনও প্রবণতা নয়। আগেও এমন অপরাধ ঘটেছে; কখনও সংখ্যা বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বা আগের সক্ষমতার জায়গায় ফিরে গেছে এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্ষম করতে লাগাতার কাজ করতে হবে। পুলিশের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কোনও ক্ষেত্রই এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যাও অপ্রতুল।’ দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারেরও সমালোচনা করেন নূর খান লিটন। 

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যবহারের পাশাপাশি পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া হয়নি; অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা ছিল গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটনির্ভর। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারের সদিচ্ছা এবং পুলিশকে পেশাদারত্বের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, সারাদেশে নারী ও শিশুরা নানা ধরনের নির্যাতন, হত্যা, গুম, নিখোঁজ ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। চলতি বছরেও শিশু নিখোঁজ ও অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজ হওয়া অনেক শিশুকে উদ্ধারও করেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং সমাজে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও অবিশ্বাস তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘যখন একটি শিশু সামান্য একটি মোবাইল ফোনের জন্য হত্যার শিকার হয়, কিংবা শিশু অপহরণ করে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার, পাচার বা অন্য কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ সামনে আসে, তখন অভিভাবকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ভয় তৈরি হয়। তারা মনে করতে শুরু করেন, এ সমাজ তাদের সন্তানের জন্য নিরাপদ নয়।’