সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সরকার থেকে ইজারা নেওয়া ঘাসী নদী ২য় খণ্ড দখলের চেষ্টা ও মাছ লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও জলমহালের ইজারাদার সমিতির সম্পদ রক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী সমিতি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইমেইল ও ওয়াটসআপের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ‘ঘাসী নদী ২য় খণ্ড’ জলাশয়টি বাংলা ১৪৩১ থেকে ১৪৩৩ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ইজারা নেয় হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে সমিতিটি নদীর মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে আসছিল।
অভিযোগ উঠেছে, মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সেনোয়ার হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে ইজারাকৃত ওই নদীর একটি অংশ দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সেনোয়ার হোসেন তার নিজ গ্রাম মির্জাপুরের ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে নদীতে জোর করে প্রবেশ করেন। নেট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল ফেলে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
হামিদপুর বন্ধন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে জানান, অবৈধ দখলের কারণে তাদের চাষ করা মাছ ও অন্যান্য সম্পদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সমিতির অন্তত ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সরকারি রাজস্বে পরিচালিত জলাশয়টির শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. সেনোয়ার হোসেন বলেন, বিরোধকৃত অংশটি ইজারা বহির্ভূত। এই অংশটি প্রতি বছর মির্জাপুর গ্রামের জামে মসজিদের ভোগ দখল করেন। কিন্তু এই ইজারাদার আসার পর থেকে সেটির ব্যতিক্রম ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, আমি মসজিদ ও এলাকার লোকজনের পক্ষে কথা বলায় ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগের বিষয়টি থানার ওসি অবগত আছেন। অভিযোগ হয়ে থাকলে ইউএনও তদন্ত করে দেখবেন।
মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, ঘাসী নদী ২য় খণ্ড জলমহালের ইজারাদার সমিতি একটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।