Image description
এই ভূখন্ডে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ ও বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ভিকটিম শহীদ আব্দুল মালেক ভাইকে নিয়ে প্রথম আলোর রিপোর্ট পড়লাম। আমার কাছে চর্বিত চর্বন মনে হলো। মানে ঘুরে ফিরে একই কথা বারবার। সেখানে একবার ছাত্র সংঘকে ৭১ এর সাথে মিলিয়ে মালেক ভাইকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে আব্দুল মালেক ভাই শহীদ হয়েছেন ৭১ এর দু বছর আগে।
 
এরপর সেদিনের শিক্ষা সেমিনারের কথা তুলে নতুন একটি বয়াণ দাঁড় করানো হয়েছে। সেদিন কোন কোন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বাকযুদ্ধে জ জড়িয়ে পড়েছিলেন, সেখানে ছাত্র সংঘের নেতারা এসে হট্টগোল করেন। তারপর তারা বিশৃঙ্খলা করেন। তারপর এক পর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে তৎকালীন রেসকোর্স দিয়ে পালিয়ে যান। সেখানে সংঘর্ষেই আব্দুল মালেক নিহত হন।
 
আর এই বয়াণটি পুরোপুরি দাঁড় করানো হয়েছে ড. মোহাম্মদ হাননানের ‘লেখা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১) বইকে উপজীব্য করে। একপেশে একটি বয়াণ দাঁড় করাতে চাইলে যেভাবে শুধু একটি রেফারেন্সই বারবার করা হয়, এই প্রতিবেদনেও তাই করা হয়েছে। শিবিরের ওয়েবসাইটগুলো থেকেও সামান্য কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে কিন্তু প্রতিবেদনে আবার এগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধও করা হয়েছে।
 
আমি ইতিহাস বিকৃতির এই হীণ প্রয়াস দেখে যারপরনাই ব্যথিত হয়েছি। মানুষ যদি সাইকোলোজিকালি দলান্ধ হয়, তাহলে কতভাবেই না প্রতিফলিত হয়। এই প্রথম আলো হয়তো এ কারণেই হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলতে দ্বিধান্বিত হয়। পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে হাসিনার বিদায় শিরোনাম লিখতে বেশি স্বস্তি অনুভব করে।
 
ড. মোহাম্মাদ হান্নানের কাজের সাথে আমি খুব পরিচিত নই। তবে গুগুল সাহেব নিজেই হান্নান সাহেবের ব্যাপারে সার্টিফিকেট দিতে গিয়ে জানালো, ড. মোহাম্মাদ হান্নানের লেখায় একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। বিশেষ করে ছাত্রলীগ সম্পর্কে তাঁর অবস্থান বেশ ইতিবাচক। ২০২২ সালের একটি লেখায় তিনি লিখেছেন, “ছাত্রলীগের ইতিহাসটা বাংলাদেশেরই ইতিহাস” এবং ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ছাত্রলীগকে অগ্রগামী শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গুগুল আরো জানায়, আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাঁর ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্রলীগের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এমনকি তাঁর লেখা বইয়ের আলাদা একটি খণ্ডে ১৯৯৬–২০০১ সালের শেখ হাসিনা সরকারের সময়কে “শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক সময়” হিসেবে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে।
 
এটুকু পড়েই আমি মোটামুটি একটি ধারনা পেয়ে গেলাম। যিনি ছাত্রলীগকে গ্লোরিফাই করার চেষ্টা করেন, তিনি ছাত্রলীগের একটি অন্যায় ঢাকার চেষ্টা করবেন তা অস্বাভাবিক নয়। আমার শুধু একটিই প্রশ্ন। শহীদ আব্দুল মালেকের রেসকোর্সে হত্যার ছবিটি তো বহুল প্রচলিত এবং পরিচিত। প্রথম আলো চাইলেই তার উন্নত টেকনোলোজি ব্যবহার করে সেখানে দৃশ্যমান হামলাকারীদের জুম করে তাদের পরিচয় বের করে অনেক কিছু পরিস্কার করতে পারতো। শিবির কী বললো না বললো- এর বাইরে তারাই ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে পাঠকের সামনে তুলে ধরে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। তাহলে এত বয়ান দাঁড় করানোরও প্রয়োজন পড়তো না।
 
সেই চেষ্টাটি তারা করেছেন কি?