Image description

ঢালিউডের নায়করাজখ্যাত প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক শুধু নিজের অভিনয় দিয়েই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে সমৃদ্ধ করেননি, বরং অভিভাবকের মতো পথ দেখিয়েছেন কয়েক প্রজন্মকে। তার সান্নিধ্য পাওয়া তারকারা আজও শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন এই মহানায়ককে।

সম্প্রতি বাংলা গানের নন্দিত গায়িকা রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে নায়করাজের সঙ্গে তার প্রথম দেখা ও কাজের স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

সেই পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন— ‘তাঁর সাথে পয়লা দেখা হয় ছিয়াশি সালে। একটা অনুষ্ঠানে। নাম জেনে নিয়ে বললেন এইটুকুন মেয়ে কীভাবে এত ভাল গাইলে? তুমি ছবিতে গেয়েছো? আমি নিরুত্তর! উত্তর দিতে পারলে তো? মহানায়ককে চোখের সামনে দেখে হতবিহবল হয়ে গেছিলাম।’

কনকচাঁপা বলেন, ‘এর পর একটা প্লেব্যাক রেকর্ডিং এ দেখা। তিনি বললেন আমি জানতাম এ জায়গাটা তোমার। তুমি তোমার করে নাও, আশীর্বাদ। আমি তখনো তাঁকে দেখি। এরপর উনি যত ছবি প্রযোজনা করেছেন সবগুলো ছবিতেই আমার গান থাকতো। আমাকে ডাকতেন কনাচাঁপা। আমার সাহেবকে কে ডাকতেন জামাইবেটা। যেন নিজের মেয়েজামাই।’

কনকচাঁপা বলেন, ‘আমি ভাবতাম আমার সময়ে যদি রাজ্জাক কবরী পেতাম! উনি বলে বসলেন আহা, আমাদের সময়ে যদি তোমাকে পেতাম! টুক করে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেই বললেন 'এ মেয়ে তো পাগলি আছে '! এত বড় একজন মানুষ অথচ এত সহজ, ভাবাই যায় না। তার রেকর্ডিং এ সবাইকে একসাথে নিয়ে তিনি খাবার খেতেন, রেকর্ডিং এ ভাত খাইনা বলে তিনি বলতেন ওকে কাবাব এনে দাও! যেন খেতেই হবে।’

নায়ক রাজ রাজ্জাকের পরিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব সময়ই তিনি তাঁর পরিবার নিয়েই চলাফেরা করতেন। তাঁর সন্তানেরা তাঁর ভদ্র শিক্ষায় শিক্ষিত, এ ব্যাপার গুলো অনেক চিন্তা না করেই বোঝা যেতো।’

কনকচাঁপা আরো বললেন, ‘আমাদের ছোট বেলায় দেখা রাজ্জাক ততদিনে অনেক পরিণত। সুদর্শন রাজ্জাক ততদিনে হয়েছেন রাশভারী, অনেকটাই চুপচাপ এবং অবশ্যই আরও সুন্দর এবং তিনি এ বয়সেও হাসলেই বুঝে যেতাম এই হাসি তাঁকে মহারাজা হতে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।’

নায়করাজের অবদানের কথা স্মরণ করে এ সংগীতশিল্পী বলেন, ‘তাঁর সাবলীল সব সময়ের আধুনিক অভিনয় বাংলা ভাষাভাষী কেউ কখনোই ভুলবে না এ কথা বলাই বাহুল্য। তাঁর প্রতিভা, তাঁর অবদান নিয়ে কথা বলার সাহস আমার নেই তবে আমি এটুকু বুঝি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দাঁড়ানোর জন্য তার শক্তি ব্যবহার করেছে স্বচ্ছন্দে। তিনি বাংলাদেশকে দিয়েছেন উজাড় করে। নায়করাজ ----- যেখানেই যান, ভাল থাকুন। আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন।’