রাজধানীর কাফরুল থানার শেওড়াপাড়ায় প্রধান সড়কের পাশে একটি সিএনজি স্টেশন। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় গিয়ে দেখা গেল, সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সড়কের একপাশ দখল করে অটোরিকশা রেখে চালকরা অপেক্ষা করছেন। কখন নিজের সিরিয়াল আসবে আর কাঙ্ক্ষিত গ্যাস মিলবে সেই অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত তারা।
অপেক্ষারত চালকদের একজন সানাউল্লাহ। চোখেমুখে ক্লান্তি আর কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। ঘর্মাক্ত শরীরে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি সিরিয়াল পেয়েছেন। তবু খুশি মনে এগিয়ে গেলেন এই ভেবে যে, সিলিন্ডার ভরে গ্যাস নেওয়া গেলে সারাদিন আর টেনশন করতে হবে না। গ্যাস নেওয়ার পর তাঁর মুখের ভাব বদলে গেল। মাত্র ২৯ টাকার গ্যাস পেয়েছেন! মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তাঁর। কী হবে এত অল্প গ্যাস দিয়ে?
সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে সানাউল্লাহ অনাগ্রহ নিয়ে বললেন, ‘ভাই, শরীরটা বেশি ভালো না। ভেবেছিলাম, অন্তত ৩৮০ টাকার গ্যাস নিতে পারব। তাহলে রাত পর্যন্ত গাড়িটা চালিয়ে মালিকের জমা দেওয়ার পর বাসার বাজার করা যেত। এখন তা আর হলো না। এটি নিয়ে গ্যারেজে জমা দিয়ে খালি হাতে বাসায় যেতে হবে।’
আরও কথা হয় স্কুল ও কলেজপড়ুয়া দুই সন্তানের বাবা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রায় সোয়া ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৫৩ টাকার গ্যাস পেয়ে হতাশ। তাঁর এক সন্তান স্কুলে পড়ে। আরেক সন্তান এবার এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার আয় দিয়ে চলে তাঁর চার সদস্যের সংসার। যে টাকার গ্যাস পেয়েছেন এতে কোনো ভাড়ার যাত্রী নিয়ে কোথাও যাওয়া সম্ভব না। তাই তিনি হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।
একই স্টেশনে গ্যাস নিতে আসেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মনিরুল ইসলাম। তিনি ভেবেছিলেন, ৩০০-৪০০ টাকার গ্যাস পাবেন; নিশ্চিন্ত মনে যাত্রী নিয়ে চালাবেন। পূরণ হলো না আশা। ৮১ টাকার গ্যাস পেয়ে সিএনজি স্টেশনের পাশে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কিছুটা বিব্রত হয়ে বলেন, ‘ভাই, ঢাকা শহরে পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে বাঁচব সেটি নিয়ে ভাবছি। পৌনে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর পেলাম ৮১ টাকার গ্যাস।’
কেন এত কম টাকার গ্যাস পেলেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন অধিকাংশ গ্যাস পাম্পে প্রেসার না থাকায় আমরা চাহিদামতো গ্যাস নিতে পারছি না।’ এর দ্রুত সমাধান চান মনিরুলসহ অন্য চালকরা।