Image description
 
মুজিববাদী বামদের কোলে তুলে নিয়ে বিএনপি যদি আওয়ামীলীগ ঠেকানোর রাজনীতি করে তাহলে তা নিশ্চিত ভাবে ব্যাকফায়ার করবে। রাষ্ঠ্রীয় প্রচার মাধ্যম এখন সিপিবির প্রপাগান্ডা মেশিনে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কমিউনিস্টদের মনে প্রানে ঘৃনা করে।
 
 কারন দেশের মানুষ দেখছে কমিউনিস্টরা শুধু আওয়ামীলীগের সফট পাওয়ার নয়, দিল্লির স্বার্থ রক্ষার পাহারাদার। দুর্ভাগ্য হলো সিপিবি এখন বিএনপির রাজনৈতিক থিংকট্যাংকে পরিনত হয়েছে। আওয়ামীলীগের পুরো রেজিমে সিপিবি সমর্থন দিয়ে গেছে। এমনকি সিপিবি নেতা এম এম আকাশ সমকালে গুম, খুনের পক্ষে কলাম লিখেছিলো।
 
সিপিবিকে আশ্রয় করে বিএনপির এই রাজনৈতিক কৌশল এবারের ভোটে নি:সন্দেহে কিছুটা ফল দিয়েছে। মাইনোরিটি এবং আওয়ামীলীগের ভোট বিএনপি পেয়েছে কিন্তু এই কৌশলের কারনে বিএনপি তার পুরানো ভোট ব্যাংক হারিয়েছে। এছাড়া আওয়ামীলীগ এবং তার ঐতিহাসিক মিত্র বামরা কখনোই বিএনপির স্থায়ী বন্ধু হবে না।
 
হাসিনা দেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে তাতে এক মেয়াদে সুশাসন কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান বড় কোনো অগ্রগতি দেখানো সম্ভব হবে না। ফলে ভোট ব্যাংকে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। এজন্য দরকার হবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে বিএনপির ক্ষমতায় থাকা।
 
 কিন্তু এরমধ্যে আওয়ামীলীগ কি ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে তার কিছু নমুনা আজ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুরে দেখা গেছে। জগন্নাথ হলে ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলো। গনেশকে জিজ্ঞাসা করলে তো জানা যায় কারা হলের ভেতর থেকে বাইরে ককটেল ফুটিয়েছে। বিএনপির মিত্র ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট কোথায়? তারা গতকাল মুজিবের ছবি টানানোর জন্য মিছিল করেছিলো।
 
বিএনপি যতবার বামদের সাথে আঁতাত করে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারন করেছে প্রতিবার তার জন্য চড়ামুল্য দিতে হয়েছে। এবারও যদি এভাব চলতে থাকে তার ব্যতিক্রম হবে না। ৯২ সালে বিএনপির ভেতর থেকে একটি অংশ বামদের প্ররোচনায় গন আদালত গঠন করেছিলো। এর পরিনতি হিসাবে ৯৩ থেকে সংসদ বর্জন এরপর ৯৬-এ আওয়ামীলীগের ২১ বছর পর ক্ষমতায় আরোহন করেছিলো। বিএনপি এখন ভাবছে প্রয়োজেনে বাম আর আওয়ামীলীগ দিয়ে জামাতকে সাইজ করবে। এই হিসাব বিএনপির জন্য বিপদ ডেকে আনবে। কারন আওয়ামীলীগ জানে ক্ষমতাকে আক্রমন করতে হবে।
 
যে ক্ষমতার বাইরে সে যত বড় শত্রুই হোক তাকে শুরুতে আক্রমন করবে না। কৌশল হবে আগে বিএনপি পরে জামাত। অতীতেও তাই হয়েছে । বিএনপি সরকারের পতন হয়েছে বলে জামাত নেতাদের আওয়ামীলীগ ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পেরেছে। কিন্তু পতনটা আগে বিএনপির হয়েছে।
 
বিএনপির এই পতনের আন্দোলনে বাম ও সাবেক বাম সুশীল সমাজের ভুমিকা ২০০৮ সালের পর কেমন ছিলো তা হয়তো বিএনপি নেতারা এখন ভুলে গেছে। সে সময় কারা দল ভেঙ্গেছিলো সে কথাও ভুলে গেছে। আওয়ামীলীগ ঠেকাতে হলে জামাত- এনসিপির সাথে বিএনপির বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক ঐক্য লাগবেই। কিন্তু বামদের কোলে তুলে নিয়ে তাদের রাজনৈতিক পৃষ্টপোষকতা দিলে এই ঐক্য কখনোই হবে না।
 
বামদের দিয়ে ঠিক এই বিভাজনের রাজনীতি হলো দিল্লির রাজনীতি। সরকারের ৬ মাসের মাথায় বিএনপি দিল্লির পাতানো ফাঁদে পা দিয়েছে। সামনে আরো বহু সময় বাকি।