Image description

বাংলাদেশি তরুণদের প্রস্তাবিত সম্ভাবনাময় প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করবে রাশিয়া। রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবজাতির সমস্যা সমাধানে ফলপ্রসূ হতে পারে— এমন কোনো প্রকল্পের ধারণা থাকলে তা নিয়ে ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পাওয়া যেতে পারে এই অর্থ সহায়তা। এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা এজেন্সির উপপ্রধান কন্সটাটিন কলপাকভ।

 

রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে চলমান ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’-এর এজেন্সিটির প্যাভিলিয়নে এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নেন এশিয়া পোস্টের শেনজেন করেসপন্ডেন্ট শাওন সোলায়মান

 

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন? বাংলাদেশ—এই শব্দটি যখন আপনারা শোনেন বা বলেন, তখন আপনাদের চিন্তায় কী থাকে?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই সাক্ষাৎকার পর্বের জন্য। আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য। বাংলাদেশ আমাদের কাছে একটি বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা জানি, বাংলাদেশের অনেকে রাশিয়াকে পছন্দ করে, ভালোবাসে। তেমনি রাশিয়ার জনগণও বাংলাদেশকে ভালোবাসে। এজন্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করছে রাশিয়া।

 

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষের কোন বিষয়টি আপনার পছন্দের?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: হাসি আর উষ্ণ অভ্যর্থনা। বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটি হচ্ছে তাদের হাসি। আমার কিছু কূটনৈতিক মিত্র আছেন বাংলাদেশে। তাদের সঙ্গে দেখা হলেই সুন্দর হাসিমুখে উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমাকে বরণ করেন। অতিথিপরায়ণতায়ও বাংলাদেশের মানুষ বেশ আন্তরিক।

 

এশিয়া পোস্ট: এবার আপনাদের এই সংস্থার প্রসঙ্গে আসা যাক। আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতা এজেন্সির মূল কার্যক্রম কী?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: আমাদের মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে আছে শিক্ষা, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক বিনিময়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তরুণদের বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করা। যেমন, আমাদের এই প্যাভিলিয়নে আপনি আপনার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ ‘প্রজেক্ট প্ল্যান’ ছাড়াও যদি শুধু একটি আইডিয়াও থাকে আপনার কাছে, সেটি মৌখিকভাবে তুলে ধরতে পারেন। আমরা অর্থ সহায়তার বিষয়ে বিবেচনা করব। এই সুযোগ শুধু ফেস্টিভ্যালে নয়, বরং এই ফেস্টিভ্যালের পরেও তরুণদের জন্য থাকবে।

 

এশিয়া পোস্ট: এই অর্থ সহায়তা কারা এবং কীভাবে পাবে?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: যে কেউ এই সহায়তা পেতে পারে এবং আমরা বাংলাদেশি তরুণদের সাধুবাদ জানাই। তাদের কাছে যদি এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা রাষ্ট্রের, সমাজের বা মানবকল্যাণের কাজে আসতে পারে; কোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারে এবং সেই প্রকল্পের অর্থায়ন যদি আমাদের বাজেটের মধ্যে হয়, আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে প্রস্তুত। আগ্রহী প্রার্থীকে শুধু একটি আবেদন করতে হবে। আপনার যদি এমন কোনো প্রকল্প থাকে, তাহলে (ঢাকাস্থ) রাশিয়ান হাউজে চলে আসুন। তারা আপনাকে আবেদন করতে সাহায্য করবে।

 

এশিয়া পোস্ট: বিশ্বে কোন কোন দেশে এই এজেন্সির কার্যক্রম আছে?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: বিশ্বের ৭০টি দেশে আমাদের কার্যক্রম রয়েছে। এই দেশগুলোতে আমাদের ৮৬ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে এই এজেন্সির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশগুলোতে থাকা রাশিয়ান হাউজের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরেও জাতিসংঘ ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থা, শান্তিরক্ষা মিশনের মতো কার্যক্রমের সঙ্গেও আমরা সম্পৃক্ত। আমাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় আমাদের বাজেটও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

এশিয়া পোস্ট: সবশেষে বাংলাদেশের জনগণের জন্য আপনাদের বার্তা কী থাকবে?

 

কন্সটাটিন কলপাকভ: প্লিজ, রাশিয়ায় আসুন। রাশিয়ার সঙ্গে আপনার স্বপ্ন পূরণ করুন। আমরা বাংলাদেশের জনগণের অপেক্ষায় রয়েছি।

 

গত শুক্রবার থেকে রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গ শহরে শুরু হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’। প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটারজুড়ে বিস্তৃত এলাকায় আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের ১৯১টি দেশের ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি, ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট ও গণমাধ্যমকর্মী অংশ নিয়েছেন।