দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস হতে চললেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের কোনো পরিকল্পনা বা সময়সূচি ঘোষণা করেনি বর্তমান প্রশাসন। ফলে ২০২০ সালের প্রথম সমাবর্তনের পর প্রায় ছয় বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। কবে আয়োজন করা হবে, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯টি বিভাগে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ৯ম থেকে ১৪তম ব্যাচের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যান্য কাজে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।
২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে প্রথম থেকে অষ্টম ব্যাচের মোট ২ হাজার ৮৮৭ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২২২ জন স্নাতক এবং ১ হাজার ৬৬৫ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন। অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ ১৪ জন শিক্ষার্থীকে আচার্য স্বর্ণপদক দেন।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের জন্য তিন দফা উদ্যোগ ও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। পরে তা পিছিয়ে একই বছরের নভেম্বর মাসে নেওয়া হয়। সবশেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করে প্রশাসন।
তবে ২৭ নভেম্বর ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তন স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে প্রধান অতিথির সময়সূচি পরিবর্তন এবং স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ও গাউন প্রস্তুতের মতো প্রশাসনিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে।
এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম নিয়োগ পান। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় চার মাস হতে চললেও তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তন কবে হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমাবর্তন। তাই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিয়মিত সমাবর্তনের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত হলো সমাবর্তন। আচার্যের কাছ থেকে সনদ গ্রহণের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সমাপ্তি টানেন। প্রথম সমাবর্তনের প্রায় ছয় বছর পরও দ্বিতীয় সমাবর্তন না হওয়ায় একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, আগের প্রশাসন সমাবর্তনের আশ্বাস দিলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তা আয়োজন করতে পারেনি। বর্তমান প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাবর্তনের আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরে আসা, শিক্ষকদের পাঠদানে মনোনিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে।