Image description
১১ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে ‘ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “শেষরক্ষা হচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়ে তিনি নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়ে নিয়েছিলেন।”

“এখন তাঁর ওই প্রতিষ্ঠানকে মওকুফ করা কর ফেরত দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। ক্ষমতা নিয়ে ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য এই বিপুল অঙ্কের কর মওকুফসহ আরো অনেক সুবিধা নিয়েছিলেন। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। সব সমালোচনার মধ্যেও নিজের নেওয়া সুবিধাগুলোর বিষয়ে তিনি নির্বিকার ছিলেন এবং কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।”

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “ক্ষমতা নিয়েই তিনি রাতারাতি তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়ে নেন” এবং ওই কর “একলহমায় মাফ করিয়ে নেওয়ার” ঘটনায় সংবিধানে সবার সমান অধিকারের ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ক্ষমতা ব্যবহার করে ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়ে নেওয়ার যে দাবি কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। বাস্তবে কর মওকুফ হওয়ার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

মূলত, গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতির মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসায় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দেওয়া রায়টি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। 

এরপর মামলাটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নতুন বেঞ্চে শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবিই বহাল থাকে।

সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করা দুই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীও দ্য ডিসেন্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, ক্ষমতা খাটিয়ে কর মওকুফ করানোর দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় মওকুফ জাতীয় কোনো নির্দেশনাই কখনো দেওয়া হয়নি।

 

বিভ্রান্তিকর শিরোনাম প্রকাশ করেছে যেসব সংবাদমাধ্যম

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি ছাড়াও দেশের আরও বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশ করেছে। 

এসব প্রতিবেদনের শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনূসকে কর পরিশোধ করতে হবে।মূলত, গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত এই আদেশের সাথে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগতভাবে কর পরিশোধের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও গণমাধ্যমগুলো তাঁকে জড়িয়ে এসব শিরোনাম করেছে।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের উদাহরণ:

যুগান্তর শিরোনাম করেছে: “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট”

একাত্তর টিভি লিখেছে: “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে: হাইকোর্ট”।

দৈনিক ইত্তেফাক-এর শিরোনাম ছিল: “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়”

এছাড়াও “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট” এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক ইনকিলাব, একাত্তর টিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক আমার দেশ, অবজারভার বিডি, জাগো নিউজ ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, সময়ের আলো, বার্তা ২৪, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, দৈনিক বাংলা, দৈনিক শিক্ষা, ভোরের কাগজ, এটিএন নিউজ, একুশে টিভি, মানব কণ্ঠ, দ্য ঢাকা ডায়েরি, ঢাকা মেইল, বাংলা টিভি, বায়ান্ন, দৈনিক পূর্বকোণ এবং নিউজ নাউ ২৪ ।


টকশো ও সামাজিক মাধ্যমেও ভিত্তিহীন প্রচার

সংবাদমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর শিরোনামের পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য, বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ড. ইউনূসের ক্ষমতা ব্যবহার করে কর মওকুফ করানোর এই ভিত্তিহীন দাবিটি ছড়ানো হয়েছে।

নিচে এমন কয়েকটি দাবির উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

গত ২ জুলাই ‘এখন টিভি’র একটি টকশোতে ডা. আব্দুন নূর তুষার দাবি করেছিলেন, "নিজের জন্য উনি (ড. ইউনূস) ৬০০ কোটি টাকার কর মাফ করাচ্ছেন।"

১০ এপ্রিল যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিসহ দেশবিরোধী সব গোপন ও অসম চুক্তি বাতিলের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিলে বলেন, "দায়িত্ব নিয়েই তার প্রতিষ্ঠানের ৬০০ কোটি টাকার ওপর কর মওকুফ করে নিয়েছেন।"

১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘প্রথম আলো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন , ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মাফ করে নিয়েছেন। 

এশিয়া পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ড. ইউনূসের কর মওকুফের বিষয়ে বলেন, “আসিফ নজরুল কত বড় চালাক, জুলাইয়ের ছেলেগুলোর বিরুদ্ধে বদনাম রটিয়ে দিয়েছে, আবার ইউনূস সাহেবকে তার গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৬০০-৭০০ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়েছে”।

‘আমজনতার দল’ এর সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান এক বক্তব্যে দাবি করেন, "ইউনূস স্যার আপনি কিন্তু ৬৬৬ কোটি টাকার আপনার যে কর ছিল এটা কিন্তু মাফ নিয়েছেন।"

২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর গোলাম মাওলা রনি তাঁর একটি ইউটিউব ভিডিওতে কর মওকুফের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, যার শিরোনাম ছিল: "গ্রামীণ ব্যাংকের আয়কর মওকুফ ! ডঃ ইউনুসের ৬০০ কোটি টাকার জরিমানাও মাফ ! সারা দেশে তুমুল বিতর্ক !"

২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, "অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়ে তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের উপর ধার্যকৃত ৬০০ কোটি টাকার অধিক জরিমানা তার ক্ষমতাবলে মওকুফ করেছেন এমন অভিযোগ রয়েছে।"

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এ প্রকাশিত কলামে সাংবাদিক সুমন পালিত বলেন, "অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ১৮ মাসের শাসনামলকে ঢালাওভাবে নিজের স্বার্থ পূরণে ব্যবহার করেছেন। ৬০০ কোটি টাকারও বেশি কর মওকুফ করে নিয়েছেন সরকারপ্রধান পদে থেকে।"

৩০ মে ২০২৫ তারিখে ‘ভোরের পাতা’য় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, এক টেলিভিশন আলোচনায় সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ দাবি করেন, "গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করে নিয়েছে। গ্রামীণ ফোনের ৪ হাজার কোটি টাকা মওকুফ করে দিয়েছে।"

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ ও আওয়ামী লীগ পন্থী ওয়েবসাইট থেকেও বলা হয়, "ক্ষমতায় এসে সবার আগে নিজের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মাফ করিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।" 

 

মামলার আদ্যোপান্ত 

মামলার শুরু থেকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এবং এনবিআরের কর দাবির বিষয়টি বিবিসি বাংলার ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের লভ্যাংশের ওপর ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর দাবি করে। 

গ্রামীণ কল্যাণ এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সে বছরই আদালতে রিট দায়ের করে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি ছিল, গ্রামীণফোন লভ্যাংশ দেওয়ার সময় উৎসে ১৫ শতাংশ কর সরকারকে দেওয়া হয়েছিল, তাই একই আয়ের ওপর পুনরায় কর দাবি করা বেআইনি।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এনবিআরের কর-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে গ্রামীণ কল্যাণের রিটের রুল নিষ্পত্তি করেন।

পরে এনবিআর আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টে মূল বিষয়বস্তুর ওপর পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে রায় দেন, যার ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে করের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এর কয়েকদিন পর, ৮ আগস্ট ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

 

রায় প্রত্যাহার ও পুনঃশুনানি 

ড. ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট ৪ আগস্টের রায়টি প্রত্যাহার করে।

ওইদিন ঢাকা ট্রিবিউনের ‘High Court withdraws Grameen Kalyan’s 666C tax payment ruling’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, “The High Court has withdrawn its August 4 ruling that Grameen Kalyan, owned by Nobel laureate Dr Muhammad Yunus, must pay Tk666 crore in taxes to the National Revenue Board (NBR).” 

রায় প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করে ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন বলেন, “Therefore, since he (the judge) had been involved in the case, issuing a ruling would be defective. As a result, the ruling was withdrawn, and the case was sent to the chief justice for determination by another court.”

অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট বিচারপতির মামলাটিতে একটি পক্ষে আইনজীবী হিসেবে পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততার কারণে রায়টি প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলাটি অন্য আদালতে নির্ধারণের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

 

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনেও স্ববিরোধিতা

প্রতিবেদনের শুরুতে ড. ইউনূস ক্ষমতা ব্যবহার করে কর মওকুফ করিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, ভেতরের অংশে রায় প্রত্যাহারের প্রকৃত আইনি কারণটি তারা নিজেরাই উল্লেখ করেছে। 

কালের কণ্ঠের আলোচ্য প্রতিবেদনে ‘এর আগেও রুল খারিজের রায় হয়েছিল’ অংশে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুনের বরাতে বলা হয়, আগের বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান একসময় এই মামলায় "সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু বিচারক নিজেই অতীতে মামলাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই নিয়ম অনুযায়ী ওই "রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।" 

মূলত এই আইনি কারণেই পূর্বের রায়টি প্রত্যাহার করে নতুন বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে কালের কণ্ঠ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর কালের কণ্ঠে ‘ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার রায় প্রত্যাহার’ শিরোনামে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের যে রায় দিয়েছেন, সেটি লিখতে গিয়ে কনিষ্ঠ বিচারপতি দেখেন একসময় তিনি মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেছিলেন। কাজেই এ রায় তিনি দিতে পারেন না। নিয়মানুযায়ী এটি শুনানির জন্য এখন নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন প্রধান বিচারপতি। ”

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠের ২০২৪ প্রতিবেদনেই রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির মামলাটিতে পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। অথচ ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে একই ঘটনাকে ড. ইউনূস ক্ষমতা ব্যবহার করে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়ে নেওয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সম্প্রতি ১০ সেপ্টেম্বর নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিটের রুল খারিজ করে দেন। এর ফলে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দাবি আদায়ের আইনি বাধা দূর হয়।

 

কর মওকুফের দাবি নাকচ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের

এ বিষয়ে দ্য ডিসেন্টের সঙ্গে কথা হয় কর সার্কেল-১৪, জোন-১৪-এর ডেপুটি কর কমিশনার (ডিসিটি) এ কে এম তানিমুজ্জামানের সঙ্গে। গ্রামীণ কল্যাণের মালিকানা ও ড. ইউনূসের ক্ষমতা ব্যবহার করে ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মালিকানার ধরনকে ড. ইউনূসের সরাসরি মালিকানার চেয়ে ভিন্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।  এর বাইরে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদের সঙ্গেও কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট। 

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে দাবি করা ‘ক্ষমতা খাটিয়ে কর মওকুফ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মওকুফ জাতীয় কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”

দ্য ডিসেন্টকে তিনি বলেন, “হাইকোর্ট তো কোনো কিছু মওকুফ করতে পারে না। মওকুফ করার কোনো থিওরি বা বিধানই নেই।”

পত্রিকায় কী প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আদালতে হাইকোর্টে যে দুটি মামলা ছিল, সেগুলোর রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) হয়েছে। তারা (গ্রামীণ কল্যাণ) কর কমিশনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে এসেছিল।”

এ বিষয়ে দ্য ডিসেন্টের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, তিনিও সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্র ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে আদালতে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ড. ইউনূসের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলাটি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত নামে নয়, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষেই হয়েছে। 

ড. ইউনূস কর মওকুফ করিয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রশ্নের উত্তরটা হচ্ছে না।” 

অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট মামলায় রাষ্ট্র ও এনবিআরের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা এই আইন কর্মকর্তার বক্তব্যেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ড. ইউনূস ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করিয়েছিলেন এমন দাবির সমর্থন পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে দ্য ডিসেন্টের কথা হয় গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে সরাসরি ভুল দাবি করে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এবং তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো কর মওকুফের ঘটনা ঘটেনি। 

তিনি বলেন, “এটা একটা মিথ্যা। ডাহা মিথ্যা।”

তিনি বলেন, "ড. ইউনূস তো কোনো মামলাই নিজে করেননি। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে যখন বিচারকরা বিচার করেছেন, কাউকে তিনি কিছু বলেনওনি। এখানে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই এবং তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কোনো ওকালতনামাও দেননি।" 

পূর্বের রায় প্রত্যাহারের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তির জবাব দিয়ে তিনি জানান, "আগের রায়টি আমরাই (গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে) শুনানির জন্য দিয়েছিলাম। অথচ মিডিয়া বলছে, তিনি নাকি উইথড্র বা প্রত্যাহার করে দিয়েছেন! টকশোতেও অনেক সাংবাদিক বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন।"

গ্রামীণ কল্যাণের সাথে ড. ইউনূসের সম্পর্ক স্পষ্ট করতে গিয়ে এই আইনজীবী বলেন, "ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ থেকে আরম্ভ করে গ্রামীণ ব্যাংকসহ সব প্রতিষ্ঠানেরই প্রতিষ্ঠাতা। যেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠাতা, তাই বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা হলে তাঁর নামটা জড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ তিনি এসব বিষয়ের সাথেই জড়িত নন।" 

তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস এসব প্রতিষ্ঠানের শুধু ফরমাল চেয়ারম্যান ছিলেন।  এবং ২০০৪ সালের আগেই তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কাজেই এই ট্যাক্স দেওয়া বা না দেওয়ার সাথে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্কই নেই।”

মূল কর-বিরোধ তথা লভ্যাংশ বণ্টন ও উৎসে কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গ্রামীণফোনের ৪৩.২% শেয়ার বা লভ্যাংশের টাকা গ্রামীণ কল্যাণের। কিন্তু এই ফান্ড ম্যানেজ করে সিস্টার কনসার্ন গ্রামীণ টেলিকম। ২০০৪ সাল থেকে চলা চুক্তি অনুযায়ী লভ্যাংশের ৫২% গ্রামীণ টেলিকমের এবং ৪৮% গ্রামীণ কল্যাণের।" 

তিনি আরো বলেন, "এই লভ্যাংশের ট্যাক্স তো গ্রামীণফোন ‘অ্যাট সোর্স’ (উৎস কর) কেটে রাখছে। সুতরাং আমাদের তো ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। ট্যাক্স কেটে নেওয়ার পরই টাকাটা আমাদের মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে, যা ২০০৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অ্যাপ্রুভড।" 

এনবিআরের দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, "ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট এখন বলছে এটি গ্রামীণ কল্যাণের 'আদার ইনকাম'। আমাদের কথা হলো, আমরা ট্যাক্স দেব, কিন্তু ডাবল ট্যাক্সেশন (দ্বৈত কর) তো হতে পারে না! যদি এটি আদার ইনকাম হয়, তবে আমাদের যে অংশের ট্যাক্স আগেই দেওয়া হলো, সেটা গ্রামীণ টেলিকমকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হোক। কারণ ট্যাক্স তো গ্রামীণফোন কেটে সরকারকে দিয়েই দিয়েছে।"

আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে মিডিয়ার অপব্যাখ্যা সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রামীণ কল্যাণের এই আইনজীবী বলেন, "মিডিয়া বলছে, কোর্ট নাকি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ মামলা ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট করেনি, মামলা করেছি আমরা (গ্রামীণ কল্যাণ)। কোর্ট আমাদের রিট পিটিশন ডিসমিস বা খারিজ করেছে। কোর্ট তো টাকা দেওয়ার নির্দেশ বা ডিরেকশন দিতে পারে না।" 

আইনি দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, "ডিরেকশন দেওয়ার ক্ষমতা কোর্টের নেই, কারণ ডিরেকশন দেওয়া হয় রেসপন্ডেন্টের (বিবাদীর) ওপর। আমি তো এখানে পিটিশনার। পিটিশনারের ওপর ডাইরেকশন কীভাবে আসবে? এনবিআরের আইনজীবী আদালতে না বলা কথাও বাইরে এসে বলছেন। আদালত শুধু সংক্ষিপ্ত আদেশে রিট পিটিশন খারিজ করেছেন, কী কারণে খারিজ করেছেন সেই পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো লেখা হয়নি।"

মামলার শুনানিতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগের বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি এবং পরবর্তীতে আরেকটি কোর্টও এই মামলা শুনতে চাননি, কারণ ট্যাক্সের ম্যাটারের জন্য লিমিটেড কোর্ট থাকে। সরকার বা ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট এই মামলা শুনানির জন্য আনেনি; বরং সম্প্রতি গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকেই শুনানির জন্য আবেদন করা হয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কে এম সাইফুল মজিদের বক্তব্যের জবাবে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনূস সেন্টার জানায়, গ্রামীণ ব্যাংক ছাড়া ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৮ ধারায় গঠিত এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তির মালিকানা নেই। 

বিবৃতিতে বলা হয়, “গ্রামীণ ব্যাংক ব্যতীত ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২৮ ধারা অনুসারে গঠিত, যাদের কোনো ধরনের মালিকানা থাকে না। প্রফেসর ইউনূস, কোনো বোর্ড সদস্য বা গ্রামীণ ব্যাংক এগুলোর মালিক নন। এগুলোর কোনো মালিক নেই। স্পন্সর সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কোম্পানিগুলো গঠন করা হয়েছে।”

গ্রামীণ কল্যাণের আইনগত কাঠামো সম্পর্কে ইউনূস সেন্টার একই বিবৃতিতে জানায়, “গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী গঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যাদের পৃথক আইনগত ও হিসাবগত সত্তা রয়েছে।”

 

আইনজীবীরা বলছেন ‘গণমাধ্যম অপব্যাখ্যা করছে’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া দ্য ডিসেন্টকে বলেন, "গণমাধ্যমে পুরো ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রথম কথা হলো, যে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আয়কর দাবি করা হচ্ছে, সেটি গ্রামীণ কল্যাণ। সেখানে ড. ইউনূসের কোনো মালিকানা নেই। তিনি শুধু এই প্রতিষ্ঠানটি করার আইডিয়া দিয়েছিলেন। ট্যাক্স দিতে হলেও ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ক্ষতি নেই, না দিলেও লাভ নেই; টাকাটা গ্রামীণ কল্যাণেরই থাকবে।"

বিচারপতি কর্তৃক পূর্বের রায় প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "এখানে ড. ইউনূস কোনো প্রভাব খাটাননি বা তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে কর মওকুফও করাননি। একজন বিচারক একসময় এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে লড়েছিলেন, পরে আবার তিনিই রায় দিয়েছিলেন এটি ওই বিচারকের গাফিলতি বা ত্রুটি। বিষয়টি নজরে আসার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রায়টি প্রত্যাহার করে নতুন শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। অথচ কালের কণ্ঠসহ কিছু গণমাধ্যম এটিকে মওকুফ বলে প্রচার করে মূলত মিডিয়া ট্রায়াল করছে।"

তিনি আরও বলেন, বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের শত বা হাজার কোটি টাকার কর-সংক্রান্ত আইনি বিরোধ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ ধরনের বিরোধ শুধু গ্রামীণ কল্যাণের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।

গবেষক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। কর দিতে হবে কি না, কিংবা কতটা দিতে হবে এসব বিষয় আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্ধারিত হবে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন ড. ইউনূস ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রামীণ কল্যাণের কর মওকুফ করিয়েছেন। বাস্তবে কর মওকুফ হয়নি; মামলাটি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিল এবং একটি রায় প্রত্যাহারের পর নতুন করে শুনানি হয়েছে।”

গ্রামীণ কল্যাণে ড. ইউনূসের ভূমিকা প্রসঙ্গে লেনিন বলেন, “ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা হলেও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত মালিকানা বা শেয়ার তাঁর নেই। গ্রামীণ কল্যাণের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হবে। তাই প্রতিষ্ঠানের করসংক্রান্ত একটি বিচারাধীন বিষয়কে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত স্বার্থে কর মওকুফ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।”

তিনি বলেন, “এখানে মূল বিষয় হলো, করসংক্রান্ত বিরোধটি আদালতের একাধিক শুনানির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নতুন রায়ের বিরুদ্ধেও আপিলের সুযোগ রয়েছে। সুতরাং পুরো বিষয়টিকে আদালতের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।”

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে কর মওকুফ করে নিয়েছিলেন এ কথা সত্য নয়। মামলাটি একটি বেঞ্চে বিচারাধীন ছিল। যেকোনো কারণেই হোক, ওই বেঞ্চ রায় দেয়নি। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি অন্য একটি বেঞ্চে পাঠানো হয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। এখন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তবে এটা বলার কোনো অবকাশ নেই যে, প্রফেসর ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রামীণ কল্যাণের নামে কর মওকুফ করিয়েছিলেন।”

অর্থাৎ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হয়ে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর “মওকুফ করিয়ে নিয়েছিলেন” এবং ২০২৬ সালের হাইকোর্ট সেই “মওকুফ করা কর” ফেরত দিতে বলেছে কালের কণ্ঠের এই দাবিটি বিভ্রান্তিকর। 

প্রকৃতপক্ষে, গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর নিয়ে বিরোধটি ২০১৭ সাল থেকে আদালতে বিচারাধীন ছিল। 

২০২৪ সালের একটি রায় বিচারকের পূর্ববর্তী সম্পৃক্ততার কারণে প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। 

২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের রুল খারিজ করে এনবিআরের কর দাবি বহাল রাখে। ক্ষমতা ব্যবহার করে কর মওকুফের কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।