Image description

ভারতে অবস্থানরত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুংকার ইস্যুতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রশাসনে ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে সে জন্য নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে যে আমলারা দিল্লিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন মূলত তাদের উপর সন্দেহ বেশি। ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গোটা প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। সচিব থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও নিজেদের ‘মুজিব সেনা’ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ওই সময় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি, প্রমোশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দিল্লি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এমনকি দিল্লি নিজেদের মতো করে বাংলাদেশের আমলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে ১০ হাজার কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে প্রশাসনে কর্মরত আমলাদের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে ভারতে প্রশিক্ষণ নিলেই প্রশাসনের ‘কট্টর আওয়ামী লীগপন্থী’ তকমা জুটবে। এতে প্রমোশন ও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। এটাও ঠিক দিল্লির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তরতর করে প্রমোশন হয়ে যেত। দল নিরপেক্ষ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আমলাদের নানাভাবে বঞ্চিত করে ভারতপন্থী আমলাদের গুরুত্ব দেয়া হতো। 

কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে রেজিম চেঞ্জের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিভিন্ন পদের কিছু চিহ্নিত আমলাকে সরিয়ে দেয়। তবে এখনো বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগপন্থী আমলা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়ে গেছেন। ওই সব আমলা ডিসেম্বরে হাসিনার আগমনের খবরে সাবোটাজ করেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে দিল্লিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আমলাদের উপর কড়া নজরদারী করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ২৬শ’ কর্মকর্তা দিল্লিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যারা এখনো কর্মরত রয়েছেন তাদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধির উপর গোয়েন্দা নজরদারী হচ্ছে বলে সরকারি একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


এ প্রসঙ্গে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান ইনকিলাবকে বলেছিলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতির জন্য শর্ত হতে পারে না। যদি লিখিত বা অলিখিত এ ধরনের আদেশ থাকে তা বাতিল করা জরুরী। আমার মনে হয় সরকারর বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখতে পারে।
জানা গেছে, এক সময় বাংলাদেশের প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ ছাড়া প্রশাসনের বড় বড় পদে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন দেয়া হতো না। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে এসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো।

সে কারণে প্রশাসনের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মন্ত্রণালয়ের সমমর্যাদার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের গত ২০১৪ সাল থেকে প্রশাসনে ২ হাজার ৬০০ জন সরকারি কর্মকর্তা ভারতে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের এপ্রিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সামর্থ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তা ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে ২০২৫ সালে ৫০জন বিচারক প্রশিক্ষণ নিতে যাননি। পরে তাদের আদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। 

এর পরে গত ২০১৯ ভারত বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ৫ম বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি পরে ছয় বছরে বাংলাদেশের ১৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভারত। বর্তমানে ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা কেউ সচিব পদে, কেউ অতিরিক্ত সচিব পদে-যুগ্ম সচিব পদে, উপসচিব আবার কেউ জেলা প্রশাসক পদসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২০২৪ সালের আগস্টে পট-পরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। তখন থেকে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে

। বাংলাদেশের প্রশাসনে ভারত ও হাসিনা সরকারের দোসররা বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সরকারের ভিতরে প্রবেশ করে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করতে নানা যড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। সব মিলে প্রশাসনের ভিতরে এবং বাইরে থাকা সাবেক সচিব, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব এবং সাবেক ডিসি পদে দায়িত্ব পালন করা ফ্যাসিস্ট সরকারের এবং গুপ্ত আমলাদের উপর কঠোর নজরদারি রাখছে সরকার। ভারত চেয়েছে বাংলাদেশের সরকার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা ভারত ছাড়া অন্য দেশের হয়ে কাজ করতে পারবে না বলে মনে করেছিল ভারত। তবে ভারতের এ পরিকল্পনা বাংলাদেশের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মেনে নিতে পারেনি। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভ হতাশায় ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রশাসনের ভালো যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে হয়রানি এবং ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রশাসনের অনেক সরকারি কর্মকর্তা চীন, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আরো প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী। শুধুমাত্র পাকিস্তানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ ঘুরতে গেলেও ভারত পন্থী কর্মকর্তারা বিমান বন্দরে হয়রানি করতে তা বর্তমানেও আসছে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে অবারিত বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার দেয়ার বিষয়ে আপত্তি আছে। এ আপত্তির কারণে অনেক দেশের সাথে চুক্তিটি সই হয়নি। প্রশাসনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে বহাল থাকা ভারতপন্থী ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে গোয়েন্দারা। এ কাজে সক্রিয়ভাবে সহায়তা দিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরেকটি সংগঠন। যার নাম পলিসি ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ সোসাইটি (পিএমআরএস)। ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের দাবি ভারতে প্রতিটি ষড়যন্ত্র এ দেশের মানুষ মোকাবেলা করবে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার বিষয়টিতে দিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠিয়ে সম্পর্কের বিষয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনীতির ব্যাপক পরিসর থেকে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেখা করেন। সেখানে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানান। বৈঠকে উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত বন্ধু প্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুইদেশের সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা দুটি দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের সাথে সম্পর্ক না রেখে জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধির উপর জোরারোপ করেন।

এনসিজিজি ২০১৪ সালে ভারত সরকারের কর্মী, জন অভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি শীর্ষ স্তরের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটাকে ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সরকারি কর্মচারীদের জননীতি, শাসন, সংস্কার, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি সরকারের থিঙ্ক ট্যাংক হিসেবেও কাজ করে। এছাড়া ফ্যাস্টিস আওয়ামী দুঃশাসনের সময় পদোন্নতি বঞ্চিত অনেকে একারণে এখনো তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি পাননি। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসনের নীতিমালা এবং শাসনকাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের সরকারি নীতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলো ভারত। একারণে প্রশাসনে ভারতপন্থী কর্মকর্তারা মাথাচাড়া দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সচিবালয়ের সামনে আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় প্রশাসনে ভারতপন্থী ও হাসিনার দোসর সরকারি কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। সাবেক ১/১১ সরকারের আমলে প্রশাসনে ভারতপন্থী ও হাসিনার দোসর সরকারি কর্মকর্তা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলো। 

আবার অনেকই ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই আমলা পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। আবার উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও নানা যড়যন্ত্র করেছে। বাংলাদেশের প্রশাসনে ভারত ও হাসিনা সরকারের দোসররা বর্তমান সরকারের ভিতে প্রবেশ করে নানা যড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। ভারত চেয়েছে বাংলাদেশের সরকার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা ভারত ছাড়া অন্য দেশের হয়ে কাজ করতে পারেব না বলে মনে করেছিল ভারত। তবে ভারতের এ পরিকল্পনা বাংলাদেশের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মনে নিতে পারেনি। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভ হতাশায় ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রশাসনের ভালো যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পদায়নে হয়রানির জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

গত ২০১৯ ভারত বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) ৫ম বৈঠকে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ভারত ছয় বছরে বাংলাদেশের ১৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্ম এন্ড পাবলিক গ্রীভেন্সেস’র (ডিএআর এন্ড পিজি) অধীনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্নেন্সে (এনসিজিজি) তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেই সময় বাংলদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ চুক্তি করেন। এ চুক্তির আওতায় ই-গভর্নেন্স, সার্ভিস ডেলিভারি, পাবলিক পলিসি এন্ড ইমপ্লিমেনটেশন, তথ্য প্রযুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ, নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনিক নীতি কৌশল নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া।প্রথম এমওইউ স্বাক্ষর হয় পাঁচ বছর আগে, এর আওতায় ১৫০০ সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

এডিশনাল ডেপুটি কমিশনার/ এডিশনাল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মন্ত্রণালয়ের সমমর্যাদার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হবেন। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্স (এনসিজিজি) আয়োজিত ৬০তম ব্যাচের ফ্ল্যাগশিপ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম (সিবিপি) সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। মুসৌরিতে এনসিজিজি ক্যাম্পাসে এ কোর্স সম্পন্ন হয়। এনসিজিজি থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২১৪৫ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। গত ২০২৫ সালের মধ্যে আরো এক হাজার ৮০০ কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, এনসিজিজিতে বাংলাদেশ থেকে ৫১৭ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ওই বছরের ১০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যান বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।

পরে ২০২৫ সালে অধস্তন আদালতের ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যাচ্ছেন না। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি বাতিল করা হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার অনুমতি দেয় আইন মন্ত্রণালয়। প্রশিক্ষণের জন্য সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়। এই বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের গত বছর ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার কথা ছিল। প্রতিবেদনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব (প্রশিক্ষণ) আবুল হাসানাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় ভারত সরকার বহন করার কথা ছিল। এতে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানানো হয়। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিগত আমলের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, অন্য দেশের কথামতো চলার দিন শেষ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপটার ক্লোজ, ওইটা আর রি-ওপেন হবে না। ফেলানীর মতো আর কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের লাশ কাঁটাতারে ঝুলতে দেখতে চাই না। গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং এর নবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারকে এখন থেকেই শক্ত অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের তিস্তা সংকটের সমাধানের জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, বিগত সময়ে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিদেশে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং দেশকে অস্থির করার পাঁয়তারা করছেন। এসব ব্যক্তি ‘আসি আসি’ বলে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও অপপ্রচার ছড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও সংস্থায় ভারতপন্থী ও হাসিনার দোসররা এখনো রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে তালিকা সরকারের হাতে থাকা জরুরী বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।