Image description

বিশ্ব জুড়ে চরম অস্থিরতার মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এবারের সম্মেলনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন-রাশিয়ার টানাপড়েন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মতো একাধিক সংকটের মধ্যে ব্রিকস নেতারা দিল্লিতে একত্র হয়েছেন। এবারে অবশ্য সম্মেলনের প্রথমদিনেই ব্রিকসে ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য’ ধরা দিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা শুল্ক ব্যবস্থার নিন্দা জানিয়ে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়েছে।

সম্মেলনে মার্কিন ডলারের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও ব্রিকসের নেতাদের কড়া ভাষার প্রতিধ্বনি প্রতিফলিত হয়েছে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনা করা উচিত। সেই সঙ্গে একতরফাভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধেও নেতারা সরব হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার আয়োজিত সম্মেলনের সমাপনী পর্বে জোটের এই যৌথ ঘোষণাপত্র উন্মোচন করেন।

ঘোষণাপত্রে নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ (ইউএনএসসি) বিশ্বের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ‘কাঠামোগত সংস্কারের’ দাবির ওপর জোর দিয়েছেন। চীন-রাশিয়া জাতিসংঘে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকার আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জুড়ে যে জ্বালানি সংকট চলছে তার প্রেক্ষাপটও এবারের ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে স্থান পেয়েছে। নেতারা নাবিকদের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

যদিও ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি তবে দেশটিকে উদ্দেশ্য করেই যেন এবার ব্রিকস বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। জোটটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

নেতারা নির্বিচারে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বাড়ানো এবং পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের অজুহাতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণের বিষয়েও উদ্বেগ জানান।

নয়াদিল্লি ঘোষণায় বলা হয়, একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা বাণিজ্যকে বিকৃত করে এবং ডব্লিউটিও’র নিয়মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এসব বাণিজ্যবাধা মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি। এর মধ্যে সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসীদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিষয়গুলো রয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদকে কোনো ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের জবাবদিহির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

এবার সম্মেলন শুরুর আগেই নজরকাড়া ছবি পোস্ট করেন মোদি। ইনস্টাগ্রামে ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬ শুরু হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, মোদি মাঝে রয়েছেন এবং তার এক পাশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং আরেক পাশে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিন নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।