Image description

এক সময়ের শান্ত, সবুজ, নিরিবিলি আর নিশ্চিন্ত জীবনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত দারিদ্রপীড়িত উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা। বর্তমানে মাদকের ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে নতুন প্রজন্ম। মাদক কেবল সামাজিক ব্যাধি বা স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এটি সামাজিক মূল ভিত্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে নিচ্ছে।

 

মরণনেশা মাদকে আসক্ত হয়ে কিছু বখাটে ও বিপথগামী তরুণ সমাজ আজ পুরো শান্ত নিরিবিলি জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিজের ঘর থেকে শুরু করে প্রতিবেশীর হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, কৃষকের সেচ পাম্প, ঘরের ফ্যান, বাল্ব, সাইকেল কিংবা রিকশা-হাতল যা পাচ্ছে তা-ই চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হচ্ছে তরুণ সমাজ, আর তার মাশুল গুনতে হচ্ছে গ্রামের দিনমজুর ও কৃষকদের।

 

ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম পর্যায়ে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, গাম এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি ভেজাল চুলাই মদসহ মারাত্মক নেশাজাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোকে তাদের নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে ফেলেছে। হাট-বাজারের পরিত্যক্ত জায়গা, এলাকার পরিত্যক্ত ঝোপঝাড়, কিংবা নিভৃত মাঠের মধ্যে সন্ধ্যার পর শুরু হয় অন্য জগৎ। মাদক আর জুয়ার আড্ডায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে কর্মহীন দিশেহারা তরুণ সমাজ। নেশার টাকার তাড়নায় তরুণদের ন্যূনতম বিবেক ও নৈতিকতাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি, রাজিবপুর উপজেলায় দিনেদুপুরে ছাগল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে করাতিপাড়া এলাকার শান্ত মিয়া নামের এক যুবক। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শান্ত মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চুরি করেন। চুরির মালামাল বিক্রি করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কিনে সেবন করেন তিনি।

 

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকায় তার এক বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে এসেও বাসার সব মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যান।

 

শুধু একা শান্তই রাজিবপুরকে অশান্ত করেননি। করেছে আরও কয়েকটি গ্রুপ। আর এদের সহযোগিতা করছে মাদকের গডফাদাররা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোয় যারা মাদকের বিরুদ্ধে গলা উঁচিয়ে কথা বলছে, রাত হলে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে মাদকের বাজার। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকলেও দৃশ্যমান কোনো বড় চালান ধরতে পারেনি বলে জানা গেছে।

 

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিনিয়ত উপজেলার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও স্বনামধন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের কাছে গিয়ে নিজের ছেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল দিতে অনুরোধ জানান। যাতে কারাগারে গিয়ে মাদকের নেশা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে।

 

রাজিবপুর থানার তথ্য বলছে, শেষ ছয় মাসে থানায় লিখিত অভিযোগ বা জিডি হয়েছে ১০টির মতো। এর মধ্যে চুরির সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ভারতীয় চেরাচালান বন্ধ করতে বিজিবি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ। এ নিয়ে রাজিবপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম মুঠোফোনে জানিয়েছেন, চোরেরা চুরি করছে মাদকের টাকা জোগাড় করতে। মাদক বন্ধ করতে পারলে ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটবে না। আমরা নিয়মিত মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।