অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে করা রিট খারিজ করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ। ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ জানান, গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকম একটি চুক্তিতে পৌঁছায় যে, গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণ কল্যাণকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেবে। এই আর্থিক সহায়তার প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ কল্যাণের শেয়ার থেকে অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে।
পরবর্তীতে ইনকাম ট্যাক্স অথরিটি তাদের ফাইলটি রিওপেন করে এবং দেখে যে, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে প্রফিট অর্জন করেছে, সেটির ওপর তারা উৎসে কর কর্তন করেনি। যে কারণে এই রিওপেন করা হয়। পরে এটি পুনর্বিবেচনা করে ট্র্যাক্স কমিশনার। তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর রায় প্রদান করা হয় এবং রুলটি ডিসচার্জ করা হয়। যার ফলে এই রায়টি ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে তথা সরকারের পক্ষে গেছে। রায়ে তিন অর্থ বছরে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭-এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায়সহ রুল দেন। পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবির বিষয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিষয়বস্তুর ওপর শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ ওই রায় দেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় রায়ের পরদিন ৫ আগস্ট।
পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার ওই রায় প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে প্রধান বিচারপতি রিট মামলাটি শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করেন। সেই নতুন বেঞ্চ গতকাল রিট আবেদনটি খারিজ করেন। ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দিতে হবে।