নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে যুবদল নেতা, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও বিজিবি সদস্যসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—টেংগাপাড়া এলাকার দেওয়ান কামরুল হাসান সায়েম (৪৩), জিয়া উদ্দিন (৪০), হারুন অর রশিদ ওরফে তরুনুর রশিদ খান (৪৩), দৌলতপুরের মোহাম্মদ আলী রুবেল (৪৪), পাবই গ্রামের মো. আমীন (৪২), মো. সোহেল রানা (৪৪), ঝিকরওয়ালা গ্রামের মিনামুল (৩৫) ও সহিলদেও গ্রামের কমল মিয়া (৪৩)।
আটকদের মধ্যে তরুনুর রশিদ ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের পদায়নরত রয়েছেন, তবে তিনি ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসে (সংযুক্ত) লিডার পদে কর্মরত আছেন। সোহেল রানা বিজিবিতে এবং জিয়া উদ্দিন নির্বাচন অফিসে কর্মরত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া কমল মিয়া সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক মারুফ হাসান রুবেল সোহেল কমল মিয়ার দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ‘এই ধরনের কাজ করায় সাংগঠনিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমগীর কবির সোহেল রানার বিজিবিতে কর্মরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যদি আইন বিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হয় সেটা আসলে লজ্জার।’
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সানোয়ার হোসেন তরুনুর রশিদের লিডার পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘আটকদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আটকদের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সদস্য থাকার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান বলেন, ‘আটকদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী কেউ আছেন কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হলে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হবে।’