প্রশাসন ক্যাডারের ৩৮১ জন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আবাসন প্রকল্প ‘প্রত্যাশা’। ক্ষমতা খাটিয়ে রাষ্ট্রের দুইশ কোটি টাকা নিজেদের আবাসন প্রকল্পের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন। প্রকল্পের ভেতরের সড়কগুলো উন্নয়ন করা হয়েছে সরকারি টাকায়। পাশাপাশি নিজেদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তুরাগ নদের ওপর শতকোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও সেখানে ব্যবহারযোগ্য একটি সেতু ছিল। সেই সেতুটি বন্ধ করে দিয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রকল্পের ভেতরের সড়ক উন্নয়নে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৯ কোটি টাকার কাজ করেছে। সেতু নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এই ব্যয়ের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি গাজীপুর জেলা প্রশাসন। সেতুর দুই পাশে সড়কের জমি বরাদ্দ বাবদ ৭০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে।
জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে প্রশাসন ক্যাডারের ৩৮১ কর্মকর্তা মিলে ‘প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেড’ তৈরি করেন। সমিতির মাধ্যমে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন তুরাগ নদের পাড়ে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপির ক্ষমতা পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে বদল আসে। আওয়ামী লীগ আমলে সমিতির সভাপতি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক সচিব হোসেন আবদুল মান্নান, পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় মো. নজরুল ইসলাম প্রত্যাশা সমবায় সমিতির সভাপতি হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পরপরই প্রত্যাশা সমবায় সমিতির শীর্ষ পদে আসেন জয়পুরহাট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আবাসন প্রকল্প এলাকায় ৩৮১ কর্মকর্তার নামে প্লটগুলো তৈরি করা হয়েছে। এসব প্লটের মধ্যে বেগম হামিদা চৌধুরী, মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, মরণ কুমার চক্রবর্তী, মো. হুমায়ুন কবির, তাজুল ইসলাম, মো. এসএম ওসমানুর রহমান ও মো. জিয়াউল হাসানের নাম চোখে পড়লেও বেশিরভাগ প্লটে নামফলক নেই।
আরও দেখা গেছে, আবাসন প্রকল্প এলাকায় প্রবেশে তুরাগ নদের ওপর নির্মিত স্টিলের সেতুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় স্থানীয়দের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি আরও প্রায় ২০ বছর ব্যবহার উপযোগী ছিল। প্রত্যাশা সমবায়ের সুবিধার্থে সেতুর মুখ বন্ধ করে দিয়ে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
আবাসন প্রকল্পে মানুষের বসবাস করতে আরও প্রায় ২০ বছর সময় লাগতে পারে। নতুন সেতু নির্মাণে এলজিইডির সাইনবোর্ডে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—‘নতুন প্রত্যাশা ব্রিজের নির্মাণকাজ চলমান। সেতুর নিচ দিয়ে যে কোনো যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। অতি সাবধানে নিজ দায়িত্বে চলাচল করুন। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিলে কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায়ী থাকিবে না।’ সেতুটি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আর্থিক সংকটে সেতুর কাজ বন্ধ রাখে এনডিই।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পের উন্নয়নে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৯ কোটি টাকা এবং সেতু নির্মাণে ৬৮ কোটি টাকা সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীকে দিয়ে অনুমোদন করানো হয়। এরপর সমবায়ের কর্মকর্তারা তদারকি করে এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের ভেতরের সড়ক ও সেতু নির্মাণে তোড়জোড় চালান। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ আটকে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রকল্পের কাজে গতি ফেরেনি। বিএনপি সরকারের সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির বরাদ্দ পেতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
টঙ্গীর মুদফার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নুরুন্নবী বলেন, বিসিএস কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে সরকারের দুইশ কোটি টাকার প্রকল্প। বিলাসবহুল নগর গড়ে তোলার পেছনে সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের হাত ছিল। তিনি প্রত্যাশা সমবায় সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিমালিকানা ছাড়াও প্রকল্পের ভেতরে খাসজমি আছে। প্রকল্পে আমলা ও তাদের পরিবার বসবাস করবেন, অথচ আমাদের টাকা (সরকারের টাকা) দিয়ে রাস্তাঘাট করে নিল। সরকার থেকে খাসজমি মালিকানা করে নিল প্রত্যাশা সমবায় সমিতির সদস্যরা।
সরকারি টাকায় প্রকল্পের উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান কালবেলাকে বলেন, প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেড হচ্ছে একটি সোসাইটি বা প্রাইভেট ল্যান্ড। এই প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়নি। জলসিঁড়ি আবাসন ও পুলিশের হাউজিং যেভাবে হয়েছে, একইভাবে প্রত্যাশা আবাসন প্রকল্প হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এলে তুরাগ নদের ওপর স্টিলের সেতু করেছিল। সেতুটি এখন আর থাকছে না। এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি অ্যাপ্রোচ (সেতু) করা হচ্ছে। এজন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করেছে সরকার, তবে বিল পরিশোধ হয়নি, বিল দেবে। সবকিছু সরকারের নিয়মনীতি মেনে হচ্ছে। সংস্থাগুলো কাজের বরাদ্দ করেছে, আর আমরা কাজ করাচ্ছি, এতে কাজের গতি ফিরছে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসন প্রকল্পের রাস্তার উন্নয়নে সিটি করপোরেশন এভাবে বরাদ্দ দিতে পারে কি না—এ প্রশ্নে মশিউর রহমান বলেন, অবশ্যই পারবে, সিটি করপোরেশন আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ দেয়নি, এলাকার মানুষ যেন তুরাগ নদের পাড়ে আসতে পারে, সেজন্য প্রকল্পের ভেতর দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে। প্রকল্পের ভেতরের রাস্তা নির্মাণের কাজগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) আওয়ামী লীগের আমলে বরাদ্দ দিয়েছে, এখন সেই কাজ চলমান।
তিনি আরও বলেন, ‘তুরাগ নদের ওপরে অবস্থিত স্টিলের সেতুর মুখ খুলে দিলে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে পারবে, স্থানীয় একজন ফোন করে এমনটি আমাকে বলেছিলেন, তখন আমি বলেছি, সেতুর মুখ খুলে দিলে আমাদের প্রকল্পের রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও তখন বহু গাড়ি চলাচল করবে, এটা আমি করতে দেব না।’ আবাসন প্রকল্পের ভেতরে খাসজমি রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এক টুকরো খাসজমি নেই। আমরা সমিতির নামে ৪৮ একর জমি কিনেছি।
ব্যক্তিমালিকানাধীন প্লটের উন্নয়নে সিটি করপোরেশন কাজ করতে পারে কি না এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাইদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পের ভেতরের সড়ক নির্মাণের জন্য ৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছিলেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে শুধু অবগত করতে হয়, আর ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ‘৫২ ওয়ার্ড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে’র নামে কাজ করানো হচ্ছে। প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পের ভেতরের রাস্তাগুলো গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাজেটে নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ‘৫২ ওয়ার্ড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে’র নামে একনেকে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। এতে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি প্রকল্প পাস না হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। প্রকল্পটি যেখানে নেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো আবাসন ভবন গড়ে ওঠেনি। সেজন্য ‘৫২ ওয়ার্ড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে’র নামে কৌশলে ৪৯ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘৫২ ওয়ার্ড অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ বলা হলেও সব অর্থ ‘প্রত্যাশা সমবায় লিমিটেডের’ আবাসন প্রকল্পের রাস্তা তৈরিতে ব্যয় করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘প্রত্যাশা সমবায় লিমিটেডের’ আবাসন প্রকল্পে যাতায়াতে শতকোটি টাকার যে সেতু করা হচ্ছে, সেই সেতুরও প্রয়োজন ছিল না। কারণ, কয়েক বছর আগেই তুরাগ নদের ওপর দিয়ে মজবুত করে স্টিলের সেতু তৈরি করা হয়েছে। ওই সেতুর ওপর দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করেছে। এলাকাবাসীর যাতায়াতে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। এখন নতুন যে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই সেতুর কারণে স্টিলের সেতুটি অকেজো করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শরিফুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ২০২২ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬৮ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজ আটকে গেছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মো. সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকার প্রাক্কলিত বাজেট চাওয়া হয়েছে। অর্থ পেলে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করবে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। একটি সেতু থাকার পরও শতকোটি টাকায় আরেকটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন ছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আমাদের মতো কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসকের কাছে জমি অধিগ্রহণ চাওয়া হয়েছে, আমরা জমি অধিগ্রহণ করে দিচ্ছি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছরোয়ার। তিনি কালবেলাকে বলেন, সেতু নির্মাণে স্থানীয়রা বাধা দেবে না, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে সেতুর কাজ শুরু করে এলজিইডি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা জমি ছাড়েন না, বাধ্য হয়ে অধিগ্রহণ করতে হয়। বিভিন্ন সময়ে জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সেতুর অর্ধেক সম্পন্ন করে থমকে যায় এলজিইডি।
এদিকে পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কোনো স্থানে প্রকল্প নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে হয়। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আগেই প্রকল্প গ্রহণ মানে জটিলতা বাড়ানো, তুরাগ নদের ওপরে নির্মিত সেতুর ক্ষেত্রে সেই জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকল্প থাকায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাইয়ের আগেই কাজ শুরু করেছে এলজিইডি। সেতু নির্মাণের বেশিরভাগ কাজ শেষের পথে এসে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া মানেই প্রকল্প ঘিরে অস্বচ্ছ আছে। এখন সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে সরকার বাধ্য হয়েই জমি অধিগ্রহণের পথে এগোবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে প্রত্যাশা সমবায় লিডিটেডের নামে আবাসন প্রকল্প তৈরি করতেই পারেন। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত সেই আবাসন প্রকল্প ঘিরে সরকারের অর্থ ব্যয় করা অপরাধ, অন্য কেউ এমন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সুবিধা দেওয়া হবে কি না। প্রকল্পের পেছনে সরকারের অর্থ ব্যয়ে ব্যত্যয় ঘটেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা দরকার। গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ প্রকল্প ঘিরে যে উন্নয়ন কাজ গ্রহণ করেছে, সেটির দায়-দায়িত্ব সংস্থাগুলোকে নিতে হবে।
দেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত আবাসন প্রকল্পের উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে ও হচ্ছে। সেই একই কায়দায় প্রত্যাশা সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রকল্পের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় হলে সেটি অপরাধ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত আবাসন প্রকল্প উন্নয়নে সরকার বাজেট দিয়েছে, এটি নিয়ে গণমাধ্যম বহু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই একই কায়দায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আবাসন উন্নয়নে সরকারের অর্থ ব্যয় করতে হবে, এটা অপরাধ। একটা অপরাধ দিয়ে আরেকটা অপরাধের বিচার করা যায় না। যারা সরকারের অর্থ নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় করছেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অন্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে সে দৃষ্টান্ত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা তৈরি করবেন, এটা হয় না। প্রকল্পের উন্নয়নে সুষ্ঠু তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, নইলে আগামীতেও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করে উন্নয়নের নামে সরকারের অর্থ ব্যয় করবে।
প্রত্যাশা সমবায় সমিতির আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, যারা ক্ষমতার কাছাকাছি আছেন, তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে অপব্যবহার করেন। প্রত্যাশা সমবায় লিমিটেডের নামে সরকারের সাবেক কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত যে আবাসন তৈরি করেছেন, সেই আবাসনে কোনো ধরনের ভবন নির্মাণ হয়নি, অথচ আগেভাগেই সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এটির তদন্ত হওয়া দরকার, তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের টাকা এভাবে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যয় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা দুর্নীতি। এই দুর্নীতি বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা আশা করছি, বিএনপি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।