Image description
মনজিল মোরসেদ

আদালতের আদেশ জালিয়াতি, ভুয়া জামিন আদেশ তৈরি এবং রিটের আদেশে কারসাজির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় জালিয়াত চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০০৫ সালের আগে আদালতের আদেশ জালিয়াতির ঘটনা খুব একটা দেখা যেত না।

তবে ২০০৬-০৭ সালের পর থেকে এ ধরনের অপরাধ বাড়তে শুরু করে। তাঁর দেখা প্রথম বড় ঘটনা ছিল রামপুরার ডাবল মার্ডার মামলায় এক ফাঁসির আসামির জামিন জালিয়াতি। ওই আসামি আদালতের আদেশের একটি পাতা পরিবর্তন করে সাজা কম দেখিয়ে হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

পরে এক আইনজীবীর কাছ থেকে বিভিন্ন আদালতের সিল-ছাপ ও আদেশের নমুনাসহ একটি ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়। মনজিল মোরসেদ বলেন, একসময় জামিনসংক্রান্ত জালিয়াতি ব্যাপক আকার ধারণ করলেও পরে সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সার্ভারে যাচাই ছাড়া জামিন কার্যকর করা যায় না। এরপরও চক্র নানাভাবে জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে রিট মামলার আদেশ নিয়ে জালিয়াতি এখনো উদ্বেগজনক। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি ইটভাটা নিয়ে করা একটি মামলায় আদালত শুধু রুল জারি করেছিলেন। 

কিন্তু পরে সেই আদেশের সঙ্গে ভুয়া স্থগিতাদেশ যুক্ত করে প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে বিষয়টি ধরা পড়ার পর দেখা যায়, মূল ফাইলে কোনো স্থগিতাদেশই ছিল না। পরে আদালত এ ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, এসব জালিয়াতিতে আইনজীবী, ক্লার্ক, আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী পক্ষের যোগসাজশ থাকে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিচারহীনতা। বহু মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়নি। ফলে গ্রেপ্তারের পরও অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। 

মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘একটি মামলারও যদি দৃষ্টান্তমূলক সাজা হতো, তাহলে অনেকের মধ্যে ভয় তৈরি হতো।’ তিনি মনে করেন, বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্টকেও পদক্ষেপ নিতে হবে। জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিচার বিভাগ ও আইনজীবী পেশার প্রতি মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।