দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঘিরে সক্রিয় জামিন-আদেশ জালিয়াতির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। আদালতের আদেশ পরিবর্তন, ভুয়া নথি সংযুক্ত করা, তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়া, জাল আদেশ তৈরি, ভিন্ন মামলার নথি ব্যবহার করে আসামি কারামুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে; যার পরিপ্রেক্ষিতে দাগি আসামিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এদের বড় একটি অংশ আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে আদালতের প্রতি জনসাধারণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে জামিনসংক্রান্ত বেশ কিছু জালিয়াতি সামনে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রিট মামলায় এ-জাতীয় ঘটনা ধরা পড়ছে। তবে ঘটনাগুলোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা না নেওয়ায় মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব জালজালিয়াতির ঘটনায় আদালতের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী, কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকানের মালিক-কর্মচারীদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, অধস্তন আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত বিস্তৃত। জামিন জালিয়াতির অধিকাংশ ঘটনায় অধস্তন আদালতের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর সঙ্গে উচ্চ আদালতের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। জামিন জালিয়াতির ২৭ মামলার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া অভিযোগপত্রেও এমন তথ্য মিলেছে। সংস্থাটি এসব জালিয়াত চক্রে ৩০ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামিন আদেশ জালিয়াতি সাধারণ কোনো প্রতারণা নয়। এটি সমন্বিত অপরাধপ্রক্রিয়া। প্রথমে চক্রের সদস্যরা এমন আসামি বা তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করেন যাদের জামিন পাওয়া কঠিন অথবা যারা দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া যেসব স্বজন অনেক বেশি টাকার বিনিময়ে হলেও আসামির দ্রুত মুক্তির নিশ্চয়তা চান, তাদের টার্গেট করেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ইতঃপূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন পাওয়া দাগি আসামিদের উদাহরণ দেওয়া হয়। দুই পক্ষ একমত হলে পরবর্তী ধাপে মামলার নথি, এফআইআর, চার্জশিট, নিম্ন আদালতের আদেশ, সত্যায়িত অনুলিপি কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। চক্রের সদস্যরা কখনো এসব নথিতে পরিবর্তন আনেন, কখনো ভিন্ন মামলার নথি ব্যবহার করেন, আবার কখনো আদালতের আদেশে অতিরিক্ত তথ্য সংযুক্ত বা বাদ দিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ জারির পর তা পরিবর্তন করেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জামিন বা আদেশ জালিয়াতির ঘটনায় বিভিন্ন সময় সুপ্রিম কোর্ট যেসব মামলা করেছেন, সেগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তা জানাতে পারেননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মামলাগুলো যথাযথভাবে তদারকি করতে পারছেন না তারা। তবে এসব মামলার নিয়মিত মনিটরিংয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গকারীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় জালজালিয়াতি বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। কঠোর শাস্তি হলে এ-জাতীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
একের পর এক ঘটনায় সামনে আসে চক্র : গত এক বছরে কয়েকটি ঘটনায় জামিন জালিয়াতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার আসামির জামিনসংক্রান্ত কারসাজি। অভিযোগ ওঠে, শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য এবং পরবর্তী লিখিত আদেশের মধ্যে অসংগতি ছিল। মামলার তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে একজন আসামি কারামুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন তদন্ত শুরু করেন এবং সংশ্লিষ্ট এক বেঞ্চ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে একটি রিট মামলায় হাই কোর্টের আদেশ জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। ইটভাটাসংক্রান্ত এক মামলায় শুধু রুল জারি করা হলেও আদেশে রুলের সঙ্গে স্থগিতাদেশ যুক্ত করে ‘ইট উৎপাদন অব্যাহত থাকবে’ এ লাইন জুড়ে দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় ইটভাটা সচল রেখেছিলেন ৫১ ইটভাটার মালিক। জালিয়াতি করে তৈরি আদেশে আবেদনকারীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অতিরিক্ত ১৯ জনের নাম। এ ছাড়া জালিয়াতি করা আদেশে মামলাসংশ্লিষ্ট নন, এমন বহিরাগতদেরও করা হয় হাই কোর্টের মামলায় বাদী। পাল্টানো হয় আদেশের তারিখ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ে হাই কোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে। হাই কোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন।
কঠোর শাস্তি নিশ্চিত জরুরি, বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল : জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠান। যেখানে মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আসেন। আদালতের সরলতা ও বিশ্বাস ব্যবহার করে কেউ জালিয়াতি করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘জামিন জালিয়াতি, টেন্ডার নম্বর কারসাজি, নোটবাণিজ্য, রায় জালিয়াতিসহ আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনিয়মে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকে। এসব কর্মকাণ্ড বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করে। অতীতে অনেক ঘটনায় মামলা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে কেউ আদালতে জালিয়াতির সাহস পেত না। আদালতের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।’
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আদালতের নথি বা আদেশ নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর ফলে দায়ের করা মামলাগুলোর হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারি না। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলা নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তদন্ত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং নথি ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
২৭ মামলায় সিআইডির তদন্তে ৩০ নাম : সিআইডির তথ্যানুযায়ী, জামিন জালিয়াতির ২৭ মামলার মধ্যে ১৮টি তদন্ত করেছে ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগ এবং ৯টি সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগ। এসব তদন্তে বিভিন্ন সময়ে ৩০ জনের বেশি ব্যক্তির নাম এসেছে। তাদের মধ্যে আসামি, আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী, তদবিরকারক, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কম্পিউটার দোকানি রয়েছেন। সিআইডির তদন্তে জালিয়াতির ভিন্ন ভিন্ন ধরন উঠে এসেছে। কোথাও এজাহারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করা হয়। কোথাও জব্দ করা মাদকের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো হয়। আবার কোনো কোনো মামলায় প্রকৃত অপরাধের বিষয় আড়াল করে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের তথ্য দেওয়া হয়। তবে শুধু জাল কাগজ তৈরি করলেই কাজ শেষ হতো না। জাল কাগজকে আসল নথির মতো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে একাধিক ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। আদালত থেকে নথির তথ্য সংগ্রহ, সেটির অনুলিপি তৈরি, টাইপ করা, মূল নথির সঙ্গে মিল দেখানো, সিল ও স্বাক্ষর সংযোজন এবং শেষ পর্যন্ত তা উচ্চ আদালতে উপস্থাপন-প্রতিটি পর্যায়েই আলাদা ব্যক্তির ভূমিকার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সিআইডি জানায়, ২০১৯ সালের ১৪ আগস্ট গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার একটি মাদক মামলায় সফিউল্লাহ খানকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ও ৩০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। ওই বছরের ৬ নভেম্বর তিনি জামিন নেন। কিন্তু উচ্চ আদালতে তার জামিনের সময় উপস্থাপিত নথিতে ইয়াবার পরিমাণ দেখানো হয় মাত্র ২০ পিস। এ নথির ভিত্তিতেই জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান সফিউল্লাহ। গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জানালে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন উচ্চ আদালতের সহকারী রেজিস্ট্রার (ফৌজদারি-২) জাকির হোসেন পাটোয়ারী। মামলাটির তদন্ত করেন সিআইডির তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক সুলতান হোসেন। ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
সুলতান হোসেন জানান, তদন্তে এ জালিয়াতির ঘটনায় ১৫ জনের নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে ছিলেন সফিউল্লাহ খান, মনির হোসেন, কামরুল ইসলাম, আলী ফকির, মোকলেস মোল্লা, সিফাত মোল্লা, হীরা বেগম ও হাছিনা বেগম। এ ছাড়া তিন আইনজীবীর নামও তদন্তে আসে। তদন্তে যে চিত্র পাওয়া যায় তাতে কারাগারে সফিউল্লাহর সঙ্গে থাকা আসামি মোকলেস মোল্লা জামিনের প্রস্তাব দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আইনজীবী সহকারী ওবায়দুর রহমান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর আলী ফকির, দাউদ মোল্লা, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা কামালসহ কয়েকজনের মাধ্যমে জাল কাগজ উচ্চ আদালতে পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়। গোপালগঞ্জ আদালতের নকল শাখায় তৈরি করা কাগজ টাইপ করেন অগস্তা বাইন। তাতে তপন বিশ্বাস, জাহিদুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লার সিল-স্বাক্ষর থাকার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।
সিলেটের জকিগঞ্জের আরেকটি মাদক মামলায়ও একই ধরনের জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে। আবদুস সালামের কাছ থেকে ৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতে জামিনের সময় উপস্থাপিত নথিতে দেখানো হয় ৩২০ পিস। পরে মূল নথি তলব করে যাচাই করা হলে দেখা যায়, ওই মামলায় মোট ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ পিস ছিল আলী আহম্মদের এবং ৩ হাজার ২০০ পিস আবদুস সালামের কাছ থেকে জব্দ করা।
এ ঘটনায় আবদুস সালাম, তার শ্বশুর ইমাম উদ্দীন এবং সিলেট আদালতের নকল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে আবদুস সালাম ও ইমাম উদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়। নথি অনুযায়ী, ওই মাদক মামলায় পরে আবদুস সালামের যাবজ্জীবন সাজা হয়। জামিন জালিয়াতির আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর একটি অস্ত্র মামলায়। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বরের ওই মামলার তদন্তে দেখা যায়, প্রকৃত আসামিকে সুবিধা দিতে ‘শাহীনুর রহমান ওরফে শাহিন ওরফে কালা শাহীন’ নামে একজন কাল্পনিক আসামি তৈরি করা হয়।
জাল এজাহার, জব্দ তালিকা ও অভিযোগপত্রে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি ওই কাল্পনিক ব্যক্তির নামে দেখানো হয়। আর প্রকৃত আসামি ইয়ার আলীকে দেখানো হয় দ্বিতীয় আসামি হিসেবে। সিআইডির তদন্তে আইনজীবী মুসরোজ ঝর্ণা সাথির পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম আসে। তাদের মধ্যে ছিলেন উচ্চ আদালতের আইনজীবী সহকারী হারুন অর রশীদ, মাজেদুল ইসলাম, রংপুরের আইনজীবী সহকারী দেলোয়ার হোসেন ওরফে নুর আলম, এ বি এম রায়হান চৌধুরী, আবুল হোসেন ও কম্পিউটার দোকানি শামীম রেজা। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল তদন্ত শুরু করেন সিআইডির তৎকালীন এসআই জাকির হোসেন। ২০২১ সালের ১০ মার্চ তিনি চার্জশিট দেন।
তিনি জানান, তদন্তের সূত্রপাত হয় একটি জব্দ করা চিঠির খাম থেকে। খামটি পরীক্ষা করে দেখা যায় রংপুর থেকে নুর আলম এসএ পরিবহনের মাধ্যমে কিছু কাগজপত্র উচ্চ আদালতে হারুনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে জানা যায় নুর আলমের প্রকৃত নাম দেলোয়ার হোসেন। হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রংপুরের আইনজীবী সহকারী দেলোয়ার এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবী সহকারী মাজেদুল ইসলামের নাম পাওয়া যায়। সিআইডির তদন্তে আরও উঠে আসে, রংপুরের একটি কম্পিউটার দোকানে এজাহার, জব্দ তালিকা ও চার্জশিটের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। পরে সেসব কাগজ উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, জামিন জালিয়াতির ঘটনায় আদালতের ভিতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততারও একাধিক নজির রয়েছে। ২০১৮ সালের একটি ঘটনায় হাই কোর্টের তদন্ত কমিটি ফৌজদারি বিবিধ শাখার ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করেন। তদন্তে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মামলার তদবির করতেন। সম্প্রতি গাইবান্ধার একটি ঘটনায় জালিয়াতির কৌশল বদলের তথ্য উঠে আসে। এবার প্রাপ্তবয়স্ক চার আসামিকে শিশু দেখাতে জাল জন্মসনদ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপন, তার সহকারী হাসান আলী এবং তৎকালীন জিআরও আবদুস সবুরের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত। সিআইডির তদন্তে সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগে তদন্ত হওয়া জামিন জালিয়াতির মামলাগুলো হলো ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট শাহবাগ থানার মামলা, যার নম্বর ১৩; একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বরের মামলা নম্বর ২৬। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ১৩ আগস্টের মামলা নম্বর ২২, ২০ মে ও ৩ ডিসেম্বরের মামলা নম্বর ২১ ও ২ এবং ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর, ১৭ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারির কয়েকটি মামলা রয়েছে।